জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে বিন্নাটিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন
বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ। তিনি বলেছেন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের যোগীরখালী গ্রামে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা গেলে মানুষের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দীন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাস একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের এ খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আবু তাহেরের মতো সফল উদ্যোক্তারা এ ক্ষেত্রে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন।
তিনি জানান, মাত্র তিনটি গরু থাকলেও একটি পরিবারে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে পারিবারিক জ্বালানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর আলম বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যুবকদের সম্পৃক্ত করে বায়োগ্যাসসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে নিজ পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আশপাশের অন্য পরিবারেও গ্যাস সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনও সম্ভব হতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফারুকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।










Disqus comments are not configured yet.