৩৬০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতায় দেশসেরা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খরচ আগের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে এ উদ্যোগ।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এ ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে বলে আমরা আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমাচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখছে। কিশোরগঞ্জের এ উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রতিপাদ্যে ৩ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ এক্সপোর উদ্বোধন করেন। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।










Disqus comments are not configured yet.