কিশোরগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামে, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই পুলিশ সদস্য বর্তমানে ২০ দিন ধরে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জফরপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে সুবর্ণা আক্তার–এর সঙ্গে একই গ্রামের কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল অন্তর মিয়া (নম্বর–৩১৯১)–এর বিয়ে হয় ২৮ মে ২০২৫ তারিখে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
মা-মলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাহের পর থেকেই স্বামী অন্তর মিয়া, তার ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সুবর্ণা আক্তারের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর ও অপমান করা হয়। পারিবারিকভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. বাদল ভূঁইয়া বলেন, “আমি স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ কনস্টেবল অন্তর মিয়া জেল হাজতে রয়েছেন।”
সুবর্ণা আক্তার যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮–এর ৩ ধারায় (মামলা নং ৮৮৮/২০২৫) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)–এর ১১(গ)/৩০ ধারায় (সি.আর মামলা নং ১১৫০/২০২৫) মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে অন্তর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সূত্রে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অন্তর মিয়া আদালতে মুচলেকা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংসার করবেন এবং যৌতুক দাবি করবেন না। কিন্তু মুচলেকা ভঙ্গ করে পুনরায় নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আদালত তাকে পুনরায় জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরিফুর রহমান বলেন, “যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আদালত জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি বিচারাধীন।”
মামলার বাদী সুবর্ণা আক্তার বলেন, “বিবাহের পর থেকেই আমাকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্য মারধর ও অপমান করত। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য হয়ে সে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। আমি আদালতের নিকট ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের কাছে সুরক্ষা চাই।”
এ ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।




