বাজিতপুরে রাজনৈতিক সহিংসতায় দুই মামলা, সাবেক দুই আওয়ামী চেয়ারম্যানসহ আসামী শতাধিক
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে গত ২২ নভেম্বরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে বাজিতপুর থানায়। দুই মামলায় ১২১ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ১৩০ থেকে ১৮৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসামির তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দুই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের নামও রয়েছে।
গত ২২ নভেম্বর হিলচিয়া ইউনিয়নের সরিষাপুর সড়কে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় আনোয়ার হোসেন (পিতা—রুহুল আমিন, সাং—বুড়িকান্দা) ২৮ নভেম্বর বাজিতপুর থানায় প্রথম মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসীমুল হকসহ আরও অনেকে নামীয় আসামি হন। এছাড়া ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ মোট ৪৭ জনের নাম এবং অজ্ঞাত ১৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলাটি করেন উপজেলা যুবদল নেতা মাখন মিয়া (পিতা—মৃত আবুল হোসেন, সাং—কৈলাগ, রাহেলা ইউনিয়ন)। ২৯ নভেম্বর দায়ের করা এই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। মামলায় জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এডভোকেট শাহ আলম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজল ভূঁইয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাইয়ুম খান হেলাল, যুবদলের সদস্যসচিব আনিসুর রহমান খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য বদরুল আলম শিপুসহ ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৩০ নম্বর আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান শিবলী এবং অজ্ঞাত ৩০–৩৫ জনকেও আসামি করা হয়।
বাজিতপুর থানার ওসি মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, “দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।”
পাল্টাপাল্টি দুই মামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




