রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ধানের শীষের পক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গণসংযোগ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ধানের শীষের পক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গণসংযোগ

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডসহ পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকায় এ গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এডভোকেট মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ প্রচারণায় অংশ নেন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এডভোকেট মো. শরীফ উদ্দিন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. সাজ্জাদুর রহমান, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এডভোকেট মো. রিয়াজুল ইসলাম সেবকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মীর শাখাওয়াত হোসেন, এডভোকেট মো. রুবেল, এডভোকেট আসাদুজ্জামান ভূইয়া উৎপল, এডভোকেট চঞ্চল, এডভোকেট মো. মিলন, এডভোকেট শারমিন সুলতানা, এডভোকেট কলি আক্তার, এডভোকেট পপি আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট কবিতা, এডভোকেট কবির হোসেন খোকন, এডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম রমজান, এডভোকেট আমিনুল, এডভোকেট সাগর, এডভোকেট মাসুদসহ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
কটিয়াদী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক পাটুয়ারীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও গণসংযোগে অংশ নেন।
গণসংযোগ চলাকালে দোকানদার, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকসহ পথচারীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা এবং ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

অষ্টগ্রামে সাড়ে ৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আলী রহমান খান প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে সাড়ে ৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজাসহ জামাল মিয়া (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত জামাল মিয়া পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর (দক্ষিণহাটি) গ্রামের মৃত সাইদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় জামাল মিয়ার হেফাজত থেকে ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রবিবার (২৮ জুন) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণি ১৯(খ) অনুযায়ী অষ্টগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-১৬ এবং জিআর নম্বর-৮৫।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানাতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

কিশোরগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৪।

রোববার (২৮ জুন) র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউ টাউন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে সোহেল (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর থানার বাসিন্দা। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-৩২(৬)/১৩-এর সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অন্য এক অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এবং র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুরের যৌথ আভিযানিক দল শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা মো. আজিজুল (২৪) দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে মোবাইল ফোনে উত্যক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের স্বজনদের জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তার ছোট বোনকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আজিজুল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ২০ জুন ২০২৬ মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৬৬)।

র‌্যাব জানায়, অপহরণের পর অভিযুক্তরা কিশোরীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে অপহরণ মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কটিয়াদীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার পর সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

নিহত শফিকুল ইসলাম দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ গ্রামেই বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে শফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাঁর গোঙানির শব্দ শুনে এগিয়ে যান। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শফিকুল ইসলাম একজন শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন। আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে বিদেশে পাড়ি জমান। দেশে ফিরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরিবার নিয়ে নিজ গ্রামেই বসবাস করছিলেন।

খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর দক্ষিণ ঝিড়ারপাড়সহ আশপাশের এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা গেলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।