বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রচণ্ড তাপে বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ, বলছে অক্সফোর্ডের গবেষণা

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রচণ্ড তাপে বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ, বলছে অক্সফোর্ডের গবেষণা

উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি দেশের তালিকায় স্থান পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো—ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি সোমবার নেচার সাসটেইনেবিলিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপপ্রবাহের সংকট দ্রুত তীব্র রূপ ধারণ করছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

জীবাশ্ম জ্বালানির বর্তমান ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে প্রচণ্ড তাপের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকরা জানান, শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশ্বের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ—অর্থাৎ প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ—চরম তাপের মধ্যে বসবাস করবে। তুলনামূলকভাবে, ২০১০ সালে এ হার ছিল ২৩ শতাংশ বা প্রায় ১৫৪ কোটি।

গবেষণায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জলবায়ু ও জনসংখ্যাভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কুলিং ডিগ্রি ডেজ’ (সিডিডি) সূচকের মাধ্যমে। এই সূচক নির্দেশ করে, মানুষের জন্য নিরাপদ ঘরোয়া তাপমাত্রা বজায় রাখতে বছরে কতটা শীতলীকরণ প্রয়োজন। বছরে ৩ হাজারের বেশি সিডিডি থাকা অঞ্চলগুলোকে ‘চরম তাপপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসুস লিজানা বলেন, বাংলাদেশের গড় জাতীয় তাপমাত্রা প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল করতে পারে। তার মতে, দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছে, যেখানে বছরে শীতলীকরণের চাহিদা ৩ হাজার সিডিডির বেশি। এর অর্থ দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক তাপের মধ্যে জীবনযাপন, যা মানুষের জীবিকা, উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আগে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ঝুঁকির পাশাপাশি প্রবল তাপও সমানভাবে প্রাণঘাতী হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, হৃদরোগজনিত চাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঝুঁকি বেশি, যাদের শীতলীকরণ সুবিধা সীমিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উষ্ণ ও উপউষ্ণ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে। বিপরীতে, বৈশ্বিক উত্তরের ধনী দেশগুলোতে শীত নরম হওয়ায় ঘর গরম রাখার প্রয়োজন কমে আসবে।

ব্যক্তিপ্রতি সিডিডি সবচেয়ে বেশি বাড়বে যেসব দেশে, সেগুলো হলো—সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাওস ও ব্রাজিল। অন্যদিকে কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়েতে শীতের তীব্রতা কমায় গরমের চাহিদা কমে যাবে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, চরম তাপপ্রবণ দেশগুলোতে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহার বাড়লে একটি ‘কুলিং ট্র্যাপ’ তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার বাড়বে এবং যদি তা জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর হয়, তবে কার্বন নিঃসরণ আরও বৃদ্ধি পাবে—যা জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করবে।

গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলে প্রাণঘাতী তাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মতে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এখনই কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং শহর ও আবাসন নকশায় তাপ সহনশীল ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তা না হলে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে তাপপ্রবাহ বড় মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় সারা বছরই তীব্র গরম বিরাজ করতে পারে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ না কমালে ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২১০০ সালের মধ্যে এই বৃদ্ধি ১.৫ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে মার্চ-মে সময়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটবে।

তিনি জানান, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষার আগে প্রায় ২০ দিন তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও তাপপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২১০০ সালের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বর্ষা শুরুর আগের ৯০ দিনের মধ্যে প্রায় ৭০ দিন তাপপ্রবাহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বছরে অন্তত দুইবার প্রবল তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে—একবার বর্ষার আগে, আরেকবার বর্ষার পরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি ক্রমেই বাড়ছে এবং পৃথিবীর উষ্ণায়ন এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবর ইতোমধ্যে বৈশ্বিক ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ অক্টোবর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তীব্র তাপ স্বাস্থ্য, কৃষি ও নিরাপদ পানির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজাসহ এক বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের দামিনা মোড় এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির সময় একটি নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থেকে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি মো. জিল্লুর রহমান (৪৪)। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোনসহ জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

নেত্রকোণা জেলা ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি কেন্দুয়া থানায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি উন্নত জাতের পাট বীজ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, এসব বীজ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদার জনৈক আব্দুল মালেকের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে রিকশাযোগে করিমগঞ্জ বাজারে বীজ ব্যবসায়ী মনা বাবুর দোকানে এসব বীজ পৌঁছে দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হন। এ সময় বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস বীজ বিক্রির মধ্যস্থতায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমার নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবিরের সহযোগিতায় বীজগুলো উদ্ধার করে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত আনা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তারা জানান, বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বীজ খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবে তিনি বারবার দায় এড়িয়ে গেছেন। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা। তিনি বলেন, “ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

‘অধিক সারে অধিক ফসল’—এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতি হয়, মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি জমিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ১৭টি পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ৩৪ জন সদস্য, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা মিয়া, সাংবাদিক ফজলুর রহমান এবং কৃষি পরিবার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সেমিনারে বক্তারা জানান, ভৈরব উপজেলায় বর্তমানে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ২৭টি টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে ২৫ জন সদস্য রয়েছেন, যারা ১০টি সেশনের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বীজ প্রত্যয়ন ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানান, বর্তমানে কৃষিজমিতে জৈব সারের পরিমাণ হওয়া উচিত কমপক্ষে ৫ শতাংশ, অথচ বাস্তবে তা মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার ফসল ও মাটির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। তাই সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভৈরবের ইউনিয়নগুলো থেকে কর্মঠ, উদ্যোগী এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহী কৃষকদের বাছাই করে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

সেমিনারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিল্ড স্কুলের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারেন।