বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২

বাজিতপুর-নিকলীতে স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের ঘোষণা: মুজিবুর রহমান ইকবাল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুর-নিকলীতে স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের ঘোষণা: মুজিবুর রহমান ইকবাল

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় উপজেলা হলরুমে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাজিতপুর-নিকলীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বাজিতপুর-নিকলী এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিয়ে না আসার নির্দেশনা দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক। এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শহিদুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সরারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির ডাক্তার ইয়াকুত আলী এবং বাজিতপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অপরাধ, গুজব ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী বাজিতপুর গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন, উপজেলা দপ্তরসমূহের প্রধান, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ফল ও ইফতারির দোকানে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ফল ও ইফতারির দোকানে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফল, ইফতারি, মুরগি ও মাংসের দোকানে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।

অভিযানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরারচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আকমল হোসেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী নজরুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত কর্মকর্তারা এবং বাজিতপুর থানার একটি পুলিশ টিম।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী বাজারের ছয়টি দোকানে তদারকি চালানো হয়। এ সময় ফলের দোকান, ইফতারি সামগ্রীর দোকান, মুরগি ও মাংসের দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং রশিদ সংরক্ষণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ৪,৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হোসেনপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায়

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় এক আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মোহসীন মাসনাদ, ডাঃ তানভীর হাসান জিকো, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ এহচানুল হক, ওসি তদন্ত লিমন বোস, বিআরডিপির অফিসার হামিম রানা এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এমদাদুল হকের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। বিদায়ী বক্তব্যে এমদাদুল হক কর্মজীবনে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

কিশোরগঞ্জের সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খাইয়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি এলাকার সাঈদ হাসান ও তার সঙ্গী দলের প্রতারণা এবং মামলার বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদির রায়পুরা থানার চরসুবুদ্ধি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী সুমীর বাবা আয়নলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে আয়নল ও ফাতেমা দাবি করেন, সুমীর সঙ্গে চৌধুরী হাঁটির আ: রাজ্জাকের ছেলে সাঈদ হাসান বিয়ের প্রলোভনে ঢাকার টঙ্গী এলাকার মোল্লাবাড়িতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে এবং শারীরিক সম্পর্ক করে। বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে সাঈদ খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর ও ছবি দেখিয়ে বলেন, বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কিছু দিন পর সুমী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। বিদেশ থেকে সুমীর কাছ থেকে সাঈদ হাসান জমি কিনার কথা বলে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ১৯ জুলাই ২০২৫ সুমী দেশে ফিরে আসলে সাঈদ হাসান পিতার অসুস্থতার কথা বলে নরসিংদীর আরসিনগর এলাকায় তার ভাই তাজলের বাসা থেকে আরও ৩ লাখ টাকা নেন। সেইসাথে রাতে তাজলের বাসায় শারীরিক সম্পর্কও করেন। পরের দিন সুমী বিয়ের কাগজপত্র চাইলে সাঈদ হাসান সুকৌশলে সুমীর নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) নিয়ে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি মুকুল মেম্বারের বাড়িতে গ্রামীণ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও অপকর্ম প্রকাশ হলে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সুমীর পরিবারকে হামলা করা হয়। স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় আক্রমণের শিকার হন সাংবাদিক রিতুর মা মিনারা।

এসব ঘটনায় নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মো: সাঈদ হাসান, মো: তাজল ইসলাম, রিমা আক্তার ও আ: রাজ্জাককে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২১১/২০২৫, ধারাসমূহ: ৯(১), ৩৮০, ৪২০, ৫০৬। সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় তাজল, সাঈদ, আ: রাজ্জাক ও শিরিনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয় (নম্বর ১৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ধারাসমূহ: ১৪৩, ৩২৩, ৩৫৪, ৩৭৯, ৫০৬)।

মামলার চাপ থেকে বাঁচতে সাঈদ হাসানের বোন তাসলিমা বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের কপি পাঠায় এবং ওমান থেকে তাসলিমার জামাই জহিরুল মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। উল্লেখ্য, সাঈদের বোন শিরিন মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামী রহিম মিয়া ও পরিবারের লোকজনকে জেল পাঠান। পরবর্তীতে রহিম পরিবার খালাস পায় (মামলা নম্বর ১৫(৩)১৪)।

বর্তমানে সুমী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা জানান, সাঈদ পরিবারের সবাই মামলাবাজ ও ভয়ংকর ব্যক্তি; তারা নিয়মিত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সত্য উদঘাটন ও সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন।