বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার প্রবীণ কৃষক ইনু মিয়া রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার শপথ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ভাত পরিহার করে আসছিলেন। অবশেষে পহেলা বৈশাখে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজ হাতে তাকে ভাত খাইয়ে সেই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞার ইতি টানেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র এলাকায় এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর ইনু মিয়া ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ভাত না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। সামাজিক ও পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি ভাত গ্রহণ করেননি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর ভাত গ্রহণ করে ইনু মিয়া হাসিমুখে তা গ্রহণ করেন। এতদিন তিনি কলা, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার খেয়ে জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা যায়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১২ জানুয়ারি এক স্থানীয় কর্মীসভায় বিষয়টি আলোচনায় এলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম প্রতিশ্রুতি দেন, দল ক্ষমতায় এলে তিনি নিজ হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়াবেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন ঘটল পহেলা বৈশাখের দিনে।

ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতি এমন ভালোবাসা ও ত্যাগ বিরল। ইনু মিয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং একটি নতুন ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইনু মিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল এবং কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। আগে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল।

ইনু মিয়া বলেন, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন ভাত পরিহার করেছিলেন। আজ ভাত খেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তার স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, বহুবার চেষ্টা করেও তাকে ভাত খাওয়ানো যায়নি। আজ এতদিন পর তাকে ভাত খেতে দেখে পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ইনু মিয়ার এই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।