মসজিদে তওবা করে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা ৫ কারবারির
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল পাক্কার মাথা এলাকায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয়রা। বায়তুন নূর জামে মসজিদে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে পাঁচজন মাদক কারবারি প্রকাশ্যে তওবা করে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসাসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান। আর পুরো উদ্যোগটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রকৌশলী ওমর ফারুক। মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তওবা করেন এবং সুপথে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল নূর তারেক বলেন, সদর উপজেলার পাক্কার মাথা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনক। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনো অপরাধ বা মাদক-সংক্রান্ত তথ্য থাকলে গোপনে পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কারও বাড়িঘর ভাঙচুর বা কাউকে আঘাত করতে চাই না। যারা ভুল পথে চলে গেছে, তাদের আল্লাহর ঘরে এনে তওবার মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের উদ্দেশ্য। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রধান উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আন্দোলন ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও হামলা, ভাঙচুর কিংবা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। বরং তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, অনুতপ্ত করে স্বেচ্ছায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ করেছি। আজকের তওবা সেই উদ্যোগেরই অংশ। যারা তওবা করেছেন, তারা আর কখনো মাদক ব্যবসায় জড়াবেন না বলে সবার সামনে অঙ্গীকার করেছেন। ভবিষ্যতেও মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ইটনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. মোবারক হুসেন এবং বায়তুন নূর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হক।
আত্মসমর্পণকারী পাঁচ মাদক কারবারি হলেন— শাহানশাহ (পিতা: আরফান শাহ), মো. রুবেল মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুর রহিম), মো. রাসেল মিয়া (পিতা: মৃত জামাল উদ্দিন), মো. টুটুল মিয়া (পিতা: হুসেন মিয়া) এবং মো. সাঈদী (পিতা: আলী হুসেন)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল ভট্টাচার্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।








