হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত তার ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি ফাতেমা তুজ জোহরাকে উপযুক্ত সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা-পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ফাতেমা তুজ জোহরার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। আপনার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। এখন আপনার ছোট ছেলের চিকিৎসা এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আপনি একা নন।”
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “স্বামী-সন্তান হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তারেক রহমান স্যার পাশে না দাঁড়ালে আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারতাম না।”
জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম সোহরাব ও ফাতেমা তুজ জোহরা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে। দুই ছেলেকে নিয়ে ছিল তাঁদের সংসার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দুই সন্তানকে ঢাকায় লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তারা।
বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী একটি বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার মৃত্যু হয়। ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি বর্শিকুড়া গ্রামে দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহর মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা যান তাদের বাবা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব।
পরপর তিনটি বড় সংকটে পরিবারটি গভীর আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়ে। ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
পরিবারের দাবি, সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান তাদের পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা শুরু হয়।
পরিবারটির দাবি অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকাল থেকেই তারেক রহমান নিয়মিত জিসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে আসছেন। বর্তমানেও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফাতেমা তুজ জোহরার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array