শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরের শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত তার ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি ফাতেমা তুজ জোহরাকে উপযুক্ত সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা-পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ফাতেমা তুজ জোহরার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। আপনার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। এখন আপনার ছোট ছেলের চিকিৎসা এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আপনি একা নন।”

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “স্বামী-সন্তান হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তারেক রহমান স্যার পাশে না দাঁড়ালে আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারতাম না।”

জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম সোহরাব ও ফাতেমা তুজ জোহরা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামে। দুই ছেলেকে নিয়ে ছিল তাঁদের সংসার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দুই সন্তানকে ঢাকায় লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তারা।

বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী একটি বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার মৃত্যু হয়। ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি বর্শিকুড়া গ্রামে দাফন করা হয়।

আব্দুল্লাহর মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা যান তাদের বাবা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব।

পরপর তিনটি বড় সংকটে পরিবারটি গভীর আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়ে। ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিবারের দাবি, সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান তাদের পাশে দাঁড়ান। তৎকালীন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা শুরু হয়।

পরিবারটির দাবি অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকাল থেকেই তারেক রহমান নিয়মিত জিসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে আসছেন। বর্তমানেও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফাতেমা তুজ জোহরার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেলের সুস্থতা কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন শিগগিরই সুস্থ হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।

এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, সহসভাপতি লুৎফুর হক টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বলসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আসাদুজ্জামান মুকুল। পরে মাওলানা আবু সাইদ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
দুই দিন পানির নিচে বীজতলা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়াল কৃষক

টানা ভারী বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক কৃষকের ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথে স্থানীয় কয়েকজনের বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পুমদী গ্রামের বারিক মাস্টারের বাড়ি-সংলগ্ন ফাইপুটা বিলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। বিলের পানি বের হওয়ার একমাত্র পথটি কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে হওয়ায় তারা পানি চলাচলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ফলে জমে থাকা পানি নামতে না পেরে পুরো এলাকার বীজতলা টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দক্ষিণ পুমদী এলাকার শতাধিক কৃষকের আমন ধানের রোপণ উপযোগী বীজতলা এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও এক দিন পানি জমে থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যেত। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে চলতি মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডেকে সতর্ক করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশনে কোনো ধরনের বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনওর নির্দেশনার পরপরই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে দ্রুত বিলের পানি কমতে শুরু করে এবং ডুবে থাকা বীজতলা থেকে পানি নেমে যেতে থাকে। এতে স্বস্তি ফিরে আসে দক্ষিণ পুমদীর শতাধিক কৃষকের মধ্যে।

স্থানীয় কৃষক রাব্বি মিয়া বলেন, “দুই দিন ধরে চোখের পানি ফেলছিলাম। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যেত। ইউএনও স্যার এসে নির্দেশ দেওয়ার পর এখন পানি নামছে। আমরা অনেকটা বাঁচলাম।”

আরেক কৃষক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। একটি বীজতলা নষ্ট হলে পুরো মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ইউএনও স্যার সময়মতো না এলে আমরা বড় বিপদে পড়তাম।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জনস্বার্থের কাজে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগের সময় সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে পুমদী, সিদলা ও জিনারী ইউনিয়নের নিচু এলাকার কিছু ধানের বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দক্ষিণ পুমদীর ঘটনায় ইউএনওর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

হোসেনপুরে ট্রাকে পিটিয়ে দুই যুবক হত্যা, উদ্ধার হলো ট্রাক ও হত্যার আলামত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ট্রাকে পিটিয়ে দুই যুবক হত্যা, উদ্ধার হলো ট্রাক ও হত্যার আলামত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাছবাহী ট্রাকে ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই যুবক নিহত হওয়ার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি আইশার (EICHER) ব্র্যান্ডের মাছবাহী ট্রাক, লোহার পাইপ, হ্যান্ডেল ও লিভারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

হোসেনপুর থানা পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর মাঝপাড়া গ্রামের মো. আজাদুল ইসলাম (২০), একই গ্রামের মো. সৌরভ (১৯) এবং ডুবারপাড়া গ্রামের সরজিৎ কুমার (২৭)।

পুলিশ জানায়, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হোসেনপুর উপজেলার ডাহোরা তালিমুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে নিহত ব্যক্তির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ব্যক্তিও মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসেনপুর-গফরগাঁও সেতুর পশ্চিম পাশে যানজটের কারণে পরপর দুটি মাছবাহী ট্রাক ধীরগতিতে চলছিল। সেই সুযোগে তিনজন ব্যক্তি ট্রাকে উঠে মাছ চুরির চেষ্টা করেন। পরে ট্রাকের হেলপার ও লাইনম্যান বিষয়টি টের পান।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দাবি, ট্রাকের কেবিনে থাকা লোহার হ্যান্ডেল, হুইল রেঞ্চ, ভারী লিভার ও পাইপ দিয়ে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। পরে তাঁদের চলন্ত ট্রাক থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে এবং অপরজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আরেকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) খালিদ শেখ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তের সূত্র ধরে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং তাঁদের দেখানো স্থান থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর বীরবাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি আইশার (EICHER) ব্র্যান্ডের মাঝারি আকারের মাছবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকটির কেবিনের ওপর দুটি শ্যালো মেশিন সংযুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা লোহার পাইপ, লিভার ও হ্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ট্রাক ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41