শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য আটকে রাখা ১৭ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য আটকে রাখা ১৭ জন উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
এসআরবি-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. ইব্রাহীমের বাড়ি থেকে ওই ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার সাতজন এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে একটি মানবপাচারকারী চক্র তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল।
উদ্ধার ব্যক্তিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পলাতক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

তাড়াইল সদর বাজারে তীব্র যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
তাড়াইল সদর বাজারে তীব্র যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদর বাজারে অবাধে গড়ে উঠেছে অটোস্ট্যান্ড। এতে প্রতিদিন তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সর্বস্তরের মানুষ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারের প্রধান সড়কে যানজট লেগে থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াইল সদর বাজারের এলএসডি রোড, থানার মোড়, তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ, এশিয়া ব্যাংক, জাওয়ার রোড, উপজেলা পরিষদ, মাদরাসা মার্কেট ও মেইন রোডে অটোস্ট্যান্ড, মোটরসাইকেল পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকানের মালামাল রাখা এবং যত্রতত্র পণ্যবাহী ট্রাক লোড-আনলোডের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পথচারীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

অন্যদিকে, উপজেলা সদর বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট বসায় ওই দুই দিন যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে বাজারে চলাচলকারী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আফতাব মিয়া, বকুল মিয়া ও মাহবুব আলমসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তাড়াইল সদর বাজারে নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন অটোরিকশার ভিড় জমে। অনেক সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তারা।

পথচারী আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন জানান, নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় চারদিক থেকে আসা যানবাহন এবং সড়কের ওপর অটোস্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় তারা প্রতিনিয়ত যানজটের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, বাজারে নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং বাজারের বাইরে অটোস্ট্যান্ড স্থানান্তর করা জরুরি। তাড়াইল সদর বাজারের যানজট নিরসনে অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান সর্বস্তরের মানুষ।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিজালা আখতার বলেন, তাড়াইল সদর বাজারের যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাজারে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাজারে প্রবেশ করলে তা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারী কাদেরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদা রহমানসহ জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে ফগ মেশিনের মাধ্যমে মশানিরোধক ওষুধ ছিটানো হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান নিজ হাতে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘আমি, আমরা সকলেই যদি সচেতন হই, তবেই আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হব। নিজেদের আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে এ সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।’

তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে নতুন করে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছে বা টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। আগের তালিকা বা তথ্যভান্ডারে নেই—এমন শিশুকেও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, হাম থেকে বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছে।

এর আগে এপ্রিল-মে মাসে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পর শিশুদের বাদ পড়ার বিষয়টি নতুন করে শনাক্ত হয়। পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমেও অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। এরপরও টিকাবঞ্চিত শিশু এবং কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের নিয়ে এবার প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের ঘাটতি ও বিপুলসংখ্যক সংবেদনশীল শিশুর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংস্থাটি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।