হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু
দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে নতুন করে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছে বা টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। আগের তালিকা বা তথ্যভান্ডারে নেই—এমন শিশুকেও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, হাম থেকে বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছে।
এর আগে এপ্রিল-মে মাসে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পর শিশুদের বাদ পড়ার বিষয়টি নতুন করে শনাক্ত হয়। পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমেও অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। এরপরও টিকাবঞ্চিত শিশু এবং কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের নিয়ে এবার প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হামের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের ঘাটতি ও বিপুলসংখ্যক সংবেদনশীল শিশুর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংস্থাটি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।







Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array