বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে নতুন করে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছে বা টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। আগের তালিকা বা তথ্যভান্ডারে নেই—এমন শিশুকেও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, হাম থেকে বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছে।

এর আগে এপ্রিল-মে মাসে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পর শিশুদের বাদ পড়ার বিষয়টি নতুন করে শনাক্ত হয়। পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমেও অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। এরপরও টিকাবঞ্চিত শিশু এবং কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের নিয়ে এবার প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের ঘাটতি ও বিপুলসংখ্যক সংবেদনশীল শিশুর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংস্থাটি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।