শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলায় খেলায় সাইবার নিরাপত্তা শিখবে কিশোররা

কিশোরদের সাইবার নিরাপত্তা শেখাতে ইউনিসেফের গেমভিত্তিক উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরদের সাইবার নিরাপত্তা শেখাতে ইউনিসেফের গেমভিত্তিক উদ্যোগ

এক হাতে স্মার্টফোন, অন্য হাতে ভবিষ্যৎ। আজকের কিশোর-কিশোরীদের শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি অংশ এখন বাস্তব জগতের পাশাপাশি গড়ে উঠছে ডিজিটাল জগতেও। পড়াশোনা, বিনোদন, বন্ধুত্ব, তথ্য খোঁজা, অনলাইন গেম কিংবা সৃজনশীল কাজ—প্রযুক্তি তাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকিও।

একটি ভুল ক্লিক, অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো একটি বার্তা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য প্রকাশ, ভুয়া খবর, অনলাইন প্রতারণা কিংবা সহপাঠীর একটি অপমানজনক মন্তব্য কখনো কখনো কিশোরের জন্য দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ ও মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।

এই বাস্তবতায় কিশোর-কিশোরীদের সাইবার নিরাপত্তা ও নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা আরও সহজ, আনন্দদায়ক ও সময়োপযোগী করে তুলতে ইউনিসেফের গেমভিত্তিক শেখার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুটি ইন্টার‍্যাক্টিভ গেম, একটি কমিক এবং শিক্ষকদের অনলাইন প্রশিক্ষণের মতো উপকরণের মাধ্যমে নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এখানে মূল ভাবনাটি সহজ—শুধু বলে দেওয়া নয়, খেলার মধ্য দিয়ে শেখানো।

বাংলাদেশে শিশু ও কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ২০২৩ সালে ইউনিসেফ, গ্রামীণফোন ও টেলিনরের অংশীদারত্বে নেওয়া একটি উদ্যোগে বাংলাদেশের এক কোটির বেশি শিশু ও কিশোরকে ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। একই উদ্যোগে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।

অর্থাৎ বিষয়টি শুধু শিশুদের হাতে নিরাপদ প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার নয়; বরং তাদের এমন দক্ষতা দেওয়া, যাতে তারা নিজেরাই অনলাইন ঝুঁকি চিনতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাইতে পারে।

ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বাংলাদেশভিত্তিক যুব জরিপের ফলাফলও ডিজিটাল জীবনের চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণের অংশগ্রহণে পরিচালিত ওই জরিপে প্রতি তিনজনের প্রায় দুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যকে সবচেয়ে বড় চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আরও প্রায় এক সপ্তমাংশ সাইবার হয়রানি ও নেতিবাচক মন্তব্যকে সবচেয়ে বেশি চাপের অভিজ্ঞতা হিসেবে জানিয়েছে। ক্ষতিকর বা কষ্টদায়ক আধেয় দেখাকেও প্রায় এক সপ্তমাংশ প্রধান চাপের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই তথ্য দেখিয়ে দেয়, অনলাইন নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি কিশোরদের মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

সাইবার হয়রানি বলতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে বারবার ভয় দেখানো, অপমান করা, রাগিয়ে দেওয়া বা লজ্জায় ফেলার মতো আচরণকে বোঝায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম, অনলাইন গেম এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে এটি ঘটতে পারে।

মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, কারও বিব্রতকর ছবি প্রকাশ করা, অপমানজনক বার্তা পাঠানো কিংবা হুমকি দেওয়া এর বিভিন্ন রূপ। ইউনিসেফ কিশোরদের পরামর্শ দিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে হয়রানিকারীকে ব্লক করা, বার্তা সীমিত করা বা অভিযোগ জানানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে বিষয়টি জানানো।

কিন্তু বাস্তবে অনেক কিশোরই লজ্জা, ভয় কিংবা অভিভাবকের বকুনির আশঙ্কায় বিষয়টি গোপন রাখে। ফলে সমস্যা আরও গভীর হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তার শিক্ষা তাই শুধু ‘অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবে না’-এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাকে জানতে হবে, বিপদে পড়লে কী করতে হবে এবং কার কাছে বলতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি সাতজনের একজন কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। কৈশোরে সহিংসতা, সামাজিক চাপ, বৈষম্য, নিপীড়ন এবং সাইবার পরিবেশের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সঙ্গে বলছে, ডিজিটাল পরিবেশের প্রভাব একমুখী নয়। প্রযুক্তি শেখা, যোগাযোগ ও সামাজিক সংযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে; আবার ক্ষতিকর আধেয়, অনলাইন সহিংসতা, সাইবার হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যবহার ও বিচ্ছিন্নতার মতো ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তি থেকে শিশুদের পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা।

এখানেই ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষার গুরুত্ব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের ৪৪টি দেশ ও অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের তথ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় প্রতি ছয়জনের একজন সাইবার হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সাইবার হয়রানির প্রবণতা বেড়েছে।

যদিও এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের কিশোরদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে না, এটি একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ যত বাড়ছে, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা রক্ষার প্রয়োজনও তত বাড়ছে।

কিশোরদের জন্য নিরাপত্তার শিক্ষা অনেক সময় শুষ্ক ও উপদেশধর্মী হয়ে যায়। ‘এটি করো না’, ‘ওখানে যেও না’, ‘কারও সঙ্গে কথা বলো না’—এ ধরনের নির্দেশনা সাময়িকভাবে মনে থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা শেখানো কঠিন।

গেমভিত্তিক শিক্ষার জায়গাটি এখানেই আলাদা। একটি খেলায় যদি কিশোরকে এমন পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করানো হয়, যেখানে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, তখন সে শুধু তথ্য মুখস্থ করে না; বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুশীলন করে।

কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাল—কী করা উচিত?

কেউ ব্যক্তিগত ছবি চাইল—উত্তর দেওয়া উচিত কি না?

বন্ধুর নামে একটি সন্দেহজনক বার্তা এলো—সেটি সত্যি কি না কীভাবে যাচাই করা হবে?

কেউ অনলাইনে অপমান করছে—প্রতিশোধ নেওয়া উচিত, নাকি অভিযোগ করা উচিত?

এ ধরনের পরিস্থিতিকে খেলায় রূপ দিলে শেখাটি হয়ে ওঠে বাস্তব অভিজ্ঞতার মতো। ইউনিসেফের বিভিন্ন শিক্ষা উদ্যোগেও ইন্টার‍্যাক্টিভ গেম ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায়। শিশুদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করলে শেখার বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে।

কঠিন প্রযুক্তিগত ভাষার পরিবর্তে গল্প, চরিত্র ও ঘটনার মাধ্যমে অনলাইন নিরাপত্তা বোঝানো কিশোরদের জন্য সহজ হতে পারে। কমিকের একটি চরিত্র যদি ভুল করে এবং তার পরিণতি দেখতে পায়, অন্য চরিত্র যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয় ও সাহায্য চায়, তাহলে পাঠক নিজের জীবনের সঙ্গে ঘটনাগুলো মিলিয়ে দেখতে পারে।

এতে ‘নিরাপত্তা’ কোনো ভয় দেখানোর বিষয় না হয়ে জীবনের স্বাভাবিক দক্ষতায় পরিণত হয়।

কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই শেখানোর জায়গা নয়; সামাজিক ও জীবনদক্ষতা গড়ে তোলারও জায়গা।

শিক্ষকদের অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাইবার হয়রানি শনাক্ত করা, শিক্ষার্থীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া এবং নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করার সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে।

ইউনিসেফের ২০২৫ সালের ‘চাইল্ডহুড ইন আ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ প্রতিবেদনে শিশুদের অনলাইন ক্ষতি শনাক্ত ও মোকাবিলার প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি চেনা ও সাহায্যের জায়গা জানা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার পুরো দায়িত্ব শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।

অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সন্তানকে সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

বরং সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা জরুরি। কোন তথ্য ব্যক্তিগত, কী ধরনের ছবি প্রকাশ করা নিরাপদ নয়, অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি কোথায়, কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটলে কাকে জানাতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।

ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিশ্লেষণেও শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি বয়স উপযোগী নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন ক্ষতি শনাক্ত ও মোকাবিলার শিক্ষা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কিশোরদের ডিজিটাল জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। বরং প্রয়োজন তাদের ডিজিটালভাবে দক্ষ ও সচেতন করে তোলা।

তাদের শেখাতে হবে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা, ভুয়া তথ্য যাচাই করা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সতর্ক থাকা, অনলাইন হয়রানির প্রমাণ সংরক্ষণ করা, প্রয়োজন হলে ব্লক ও অভিযোগ করা এবং বিপদের সময় বিশ্বস্ত বড়দের সাহায্য নেওয়া।

এর পাশাপাশি একটি বিষয়ও স্পষ্টভাবে শেখানো দরকার—অনলাইনে কোনো ভুলের জন্য শিশুকে ভয় দেখানো নয়, তাকে সাহায্য করা দরকার।

কারণ শিশু যদি জানে ভুল করলে বকা খেতে হবে, তাহলে সে হয়তো সমস্যাটি লুকিয়ে রাখবে। আর যদি জানে সমস্যায় পড়লে পরিবার, শিক্ষক কিংবা বিশ্বস্ত কোনো বড় মানুষ তার পাশে দাঁড়াবেন, তাহলে সাহায্য চাইতে তার ভয় কমবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম ও নতুন নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনের শিশুদের প্রয়োজন হবে নতুন ধরনের জীবনদক্ষতা।

কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়, কীভাবে অনলাইনে সম্মানজনক আচরণ করতে হয়, কীভাবে ক্ষতিকর পরিস্থিতি শনাক্ত করতে হয় এবং কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়—এসবই এখন মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতার অংশ।

তাই কিশোরদের জন্য দুটি ইন্টার‍্যাক্টিভ গেম, একটি কমিক এবং শিক্ষকদের অনলাইন প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগকে শুধু বিনোদনমূলক শিক্ষা হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হবে। এর ভেতরে রয়েছে নিরাপদ ডিজিটাল নাগরিক তৈরির একটি বড় সম্ভাবনা।

আজকের কিশোরই আগামী দিনের ডিজিটাল নাগরিক। তার হাতে থাকবে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি, আরও বিস্তৃত তথ্যের জগৎ এবং আরও বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার সঙ্গে যদি সচেতনতা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও নিরাপত্তার জ্ঞান যুক্ত হয়, তাহলে প্রযুক্তি তার জন্য ভয় নয়, সম্ভাবনার দরজা হয়ে উঠতে পারে।

খেলায় খেলায় শেখা হোক সাইবার নিরাপত্তা। ভয় নয়, সচেতনতা হোক ঢাল। নজরদারি নয়, আস্থা হোক সম্পর্কের ভিত্তি। আর প্রযুক্তির জগতে নিরাপদ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠুক আমাদের নতুন প্রজন্ম।

হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে নতুন করে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছে বা টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। আগের তালিকা বা তথ্যভান্ডারে নেই—এমন শিশুকেও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, হাম থেকে বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছে।

এর আগে এপ্রিল-মে মাসে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পর শিশুদের বাদ পড়ার বিষয়টি নতুন করে শনাক্ত হয়। পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমেও অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। এরপরও টিকাবঞ্চিত শিশু এবং কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের নিয়ে এবার প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের ঘাটতি ও বিপুলসংখ্যক সংবেদনশীল শিশুর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংস্থাটি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার লিটন খানের ছেলে নামিম খাঁ (২০) এবং একই এলাকার কিসমত খানের ছেলে নিরব খাঁ (১৯)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের পর নামিম ও নিরব মোটরসাইকেলে করে জেলা শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথে রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই নামিম ও নিরবের মৃত্যু হয়। তবে কোন গাড়ি তাদের চাপা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান এসআই আব্দুল বাতেন।

বাজুসের সিদ্ধান্তে কমল সোনা-রুপার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
বাজুসের সিদ্ধান্তে কমল সোনা-রুপার দাম

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ১ হাজার ৬৯১ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হবে প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।