শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে: মাহ্দী আমিন

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় গুতেরেস এই শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সহযোগিতা ও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিবও বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানায়।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বাসসের তথ্য অনুযায়ী, সফরে তাঁর মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল, যার মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
হাম-রুবেলা টিকাদানে নতুন কর্মসূচি, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু

দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনতে নতুন করে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী যেসব শিশু আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছে বা টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি চলাকালে যেসব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। আগের তালিকা বা তথ্যভান্ডারে নেই—এমন শিশুকেও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিতভাবে হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেই ঘাটতির প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, হাম থেকে বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছে।

এর আগে এপ্রিল-মে মাসে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পর শিশুদের বাদ পড়ার বিষয়টি নতুন করে শনাক্ত হয়। পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমেও অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। এরপরও টিকাবঞ্চিত শিশু এবং কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের নিয়ে এবার প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকাদানের ঘাটতি ও বিপুলসংখ্যক সংবেদনশীল শিশুর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংস্থাটি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাড়ির চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার লিটন খানের ছেলে নামিম খাঁ (২০) এবং একই এলাকার কিসমত খানের ছেলে নিরব খাঁ (১৯)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের পর নামিম ও নিরব মোটরসাইকেলে করে জেলা শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথে রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই নামিম ও নিরবের মৃত্যু হয়। তবে কোন গাড়ি তাদের চাপা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান এসআই আব্দুল বাতেন।

বাজুসের সিদ্ধান্তে কমল সোনা-রুপার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
বাজুসের সিদ্ধান্তে কমল সোনা-রুপার দাম

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ১ হাজার ৬৯১ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হবে প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।