বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিজ ঘর থেকে হেলাল উদ্দিন (৫৮) নামের এক কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়নের নাড়িয়াপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত হেলাল উদ্দিন সদর উপজেলার নাড়িয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে হেলাল উদ্দিন তার স্ত্রী বেদেনা আক্তারের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রোববার ভোরে স্ত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে যান। পরে ঘরে ফিরে স্বামীকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন,
“হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।”

কটিয়াদীর প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
কটিয়াদীর প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কটিয়াদী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

সভায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়ে আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধীজন এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত যত শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তত বেশি দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হিন্দু যুব মহাজোটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

‘সবুজ গড়ি, পরিবেশ বাঁচাই, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শহরের নরোত্তম প্রেমধাম মন্দির থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহিদাস আচার্য, রাজন মজুমদার ও সজল কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সূত্রধর, প্রচার সম্পাদক সৌরভ দেবনাথ, অগ্রদীপ সাহাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বক্তারা সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও সড়কের পাশে চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে নারীসহ দুজনের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আমলাপাড়া এলাকার ছোলাইমান মিয়ার স্ত্রী শম্পা (২৮) এবং একই এলাকার জাহিদ হোসেন ওরফে ভোলা মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পার কাছ থেকে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় মাদক সেবনের উপকরণসহ রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করায় রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমলাপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শম্পা ও রুবেলকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শম্পাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং রুবেল মিয়াকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।