সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

হোসেনপুরে সাড়া ফেলেছে আদর্শ বীজতলা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে সাড়া ফেলেছে আদর্শ বীজতলা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কম লাগছে। পাশাপাশি সুস্থ চারা উৎপাদনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিও কম থাকছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কমিউনিটি ও আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

জানা যায়, ধানের চারা মূল জমিতে রোপণের আগে যে স্থানে চারা উৎপাদন করা হয়, তাকেই বীজতলা বলা হয়। কৃষকরা সাধারণত অল্প জায়গায় বেশি পরিমাণে বীজ ছিটিয়ে বীজতলা তৈরি করেন, যা সনাতন পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত বীজ ব্যবহারের কারণে চারাগুলো দুর্বল ও লিকলিকে হয় এবং সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আদর্শ বীজতলা স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে জগদল ব্লকের ডাহরা গ্রামসহ বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শনে কৃষক মো. আরিফুল ইসলাম, মো. জলিল মিয়া, আশরাফুল, ফরিদ উদ্দিন, খোকন, পংকজ, কাঞ্চন মিয়া, চান মিয়া এবং বর্শিকুড়া গ্রামের কৃষক মো. কিরন মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আদর্শ বীজতলা তৈরি করেছেন।

কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন—বীজতলার চারপাশে ছয় ইঞ্চি গভীর ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা রাখতে হয়। প্রতি বেড ১.০০–১.২৫ মিটার প্রস্থ ও ১০ মিটার লম্বা করতে হয় এবং দুই বেডের মাঝখানে ৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হয়। প্রতি বর্গমিটার বেডে ৮০ গ্রাম বীজ বপনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সমন্বিতভাবে আদর্শ বীজতলা তৈরি করেছেন।

তারা আরও জানান, আদর্শ পদ্ধতিতে বীজ বপন করলে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বীজের অপচয় রোধ হয়। চারা হয় সতেজ ও সবল। কম বয়সী চারা মূল জমিতে রোপণ করলে কুশি বেশি হয় এবং ফলনও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে বীজতলার পরিচর্যা করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

এ বিষয়ে জগদল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসিল হায়দার আলমগীর বলেন, দিন দিন এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ মৌসুমে অধিকাংশ কৃষকই আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা সুস্থ হয় এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কম থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মাসুমা আক্তার বলেন, উপজেলার পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ও আদর্শ বীজতলা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় সাড়ে ছয় কেজি বীজ সাশ্রয় হচ্ছে, যা থেকে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এছাড়া রাতে বেডে পানি দিয়ে দিনে নিষ্কাশন করলে শীতজনিত কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কা কমে যায়। ফলে এ উপজেলায় আদর্শ বীজতলার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।