মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ ১৪৩২

হোসেনপুরে সাড়া ফেলেছে আদর্শ বীজতলা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে সাড়া ফেলেছে আদর্শ বীজতলা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কম লাগছে। পাশাপাশি সুস্থ চারা উৎপাদনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিও কম থাকছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কমিউনিটি ও আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

জানা যায়, ধানের চারা মূল জমিতে রোপণের আগে যে স্থানে চারা উৎপাদন করা হয়, তাকেই বীজতলা বলা হয়। কৃষকরা সাধারণত অল্প জায়গায় বেশি পরিমাণে বীজ ছিটিয়ে বীজতলা তৈরি করেন, যা সনাতন পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত বীজ ব্যবহারের কারণে চারাগুলো দুর্বল ও লিকলিকে হয় এবং সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আদর্শ বীজতলা স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে জগদল ব্লকের ডাহরা গ্রামসহ বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শনে কৃষক মো. আরিফুল ইসলাম, মো. জলিল মিয়া, আশরাফুল, ফরিদ উদ্দিন, খোকন, পংকজ, কাঞ্চন মিয়া, চান মিয়া এবং বর্শিকুড়া গ্রামের কৃষক মো. কিরন মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আদর্শ বীজতলা তৈরি করেছেন।

কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন—বীজতলার চারপাশে ছয় ইঞ্চি গভীর ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা রাখতে হয়। প্রতি বেড ১.০০–১.২৫ মিটার প্রস্থ ও ১০ মিটার লম্বা করতে হয় এবং দুই বেডের মাঝখানে ৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হয়। প্রতি বর্গমিটার বেডে ৮০ গ্রাম বীজ বপনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সমন্বিতভাবে আদর্শ বীজতলা তৈরি করেছেন।

তারা আরও জানান, আদর্শ পদ্ধতিতে বীজ বপন করলে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বীজের অপচয় রোধ হয়। চারা হয় সতেজ ও সবল। কম বয়সী চারা মূল জমিতে রোপণ করলে কুশি বেশি হয় এবং ফলনও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে বীজতলার পরিচর্যা করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

এ বিষয়ে জগদল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসিল হায়দার আলমগীর বলেন, দিন দিন এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ মৌসুমে অধিকাংশ কৃষকই আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা সুস্থ হয় এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কম থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মাসুমা আক্তার বলেন, উপজেলার পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ও আদর্শ বীজতলা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় সাড়ে ছয় কেজি বীজ সাশ্রয় হচ্ছে, যা থেকে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এছাড়া রাতে বেডে পানি দিয়ে দিনে নিষ্কাশন করলে শীতজনিত কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কা কমে যায়। ফলে এ উপজেলায় আদর্শ বীজতলার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মারিয়ায় জমি দখলের বিরোধে ভাই-ভাবীর হামলায় নারী ও শিশুসহ আহত তিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
মারিয়ায় জমি দখলের বিরোধে ভাই-ভাবীর হামলায় নারী ও শিশুসহ আহত তিন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় পারিবারিক জমি বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ তিনজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আহতরা হলেন মো. শিপন মিয়া (৪০), তাঁর স্ত্রী নূরুন্নাহার (৩৫) এবং তাঁদের মেয়ে সোনালী (১০)। গুরুতর আহত স্ত্রী ও কন্যা বর্তমানে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী শিপন মিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর দুই ভাই মো. খোকন (৪৫), মো. সাদেক (২২) এবং ভাবি মোছা তানজিনাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানজিনা ইট দিয়ে শিপন মিয়ার পায়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় স্ত্রী নূরুন্নাহার বাধা দিতে গেলে তাঁর চুল ধরে ফেলে দিয়ে লোহার রড দিয়ে চোখের পাশে আঘাত করা হয়। তাঁদের কন্যা সোনালী এগিয়ে এলে মো. সাদেক ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে শিশুটির গালে গুরুতর জখম হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা দা, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বসতঘরের দরজা, জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে শিপন মিয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা এখনো তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিপন মিয়া বলেন, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির পরিমাণ কম হওয়ায় তা বিক্রি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বড় ভাই খোকন ওই জমি নেওয়ার আগ্রহ দেখান। পরে টাকা না দিয়েই জমি দখলের চেষ্টা করেন। টাকা ছাড়া জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাই ও ভাবি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও নির্যাতন করতে থাকেন। তিনি আরও জানান, একমাত্র কন্যা সোনালীর নামে জমি লিখে দেওয়ার কথা বলার পর থেকে তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। আগেও দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটলেও সর্বশেষ ঘটনায় তারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারেক রহমানের ভালোবাসার প্রমাণ ভোটের মাঠে দেখতে চান আব্দুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের ভালোবাসার প্রমাণ ভোটের মাঠে দেখতে চান আব্দুস সালাম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রচারণা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারেক রহমানকে ভালোবাসলে ভোটের মাঠে তার প্রমাণ দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে ঢাকা-১৭ আসন বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, তারেক রহমানই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতা। দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা ছাড়া বিকল্প নেই। শুধু মনে মনে চাইলে হবে না, মাঠে কাজ করতে হবে। কাজ না করলে ফল পাওয়া যাবে না। যারা সত্যিকার অর্থে তারেক রহমানকে ভালোবাসেন, তাদের ভোটের মাঠেই তা প্রমাণ করতে হবে।

সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেটকার চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। আপনারা নিজ নিজ গাড়িতে আমাদের স্টিকার ও লিফলেট লাগান, কিংবা নিজ হাতে লিখে লিখে লাগান ‘তারেক রহমানের জন্য ভোট চাই’। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল অর্থের বিনিময়ে ভোট নষ্ট করার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে। টাকার লোভে পড়ে ঈমান নষ্ট করবেন না। তারা এক বা দুইটি আসনে ভোট নষ্ট করে বিএনপির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

ঢাকা-১৭ আসনের চারটি থানার প্রতিটি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বস্তি এলাকা, শ্রমজীবী মানুষ এবং সিএনজি ও রিকশা শ্রমিকদের আবাসিক এলাকাগুলোতে অবশ্যই যেতে হবে। এটি দলের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় দুঃসময়ে মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। তারেক রহমান ছাড়া এই দেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য নেতা আর কেউ নেই।

প্রতারকদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া হবে না: মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
প্রতারকদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া হবে না: মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

সভায় দুইটি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, “ওরা যেভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমি ধৈর্য ধরে রাখতে পারছি না। আমার বাড়ি ঢাকা ও শাহজাহানপুরে। আমার ঠিকানা আছে। যারা ঠিকানাবিহীন, তারা বলে আমার বাড়ি অমুক জায়গায়। আমি ঠিকানাবিহীন লোক নই, এটা মাথায় রাখতে হবে।”

দেশের প্রয়োজনে রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমি এই দেশের একজন কর্মী। দেশকে স্বাধীন করা থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, সবকিছু করেছি এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করব, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ ও কসাইদের হাতে এই দেশকে পড়তে দেব না।”

নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা কলেজে পড়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, কিন্তু লোভ করিনি। তোমরা আজ লোভ করছো। এত পাগল হওয়ার কী আছে? বয়স কম, রাজনীতি শেখো। ধীরে ধীরে রাজনীতি করো, দেশের উন্নতি করো, এটাই আমরা চাই। রাজনীতি করার জন্য তোমাদের রাস্তায় ফুল বিছিয়ে দেব। কিন্তু অপকর্ম করলে তার জবাব দিতে আমরা সক্ষম, ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের শীর্ষ নেতারা।