সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

হাওড় মানেই শুকনো মৌসুমে ধান চাষের দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, সবুজ ধানের ক্ষেত দেখা যায়। কিন্তু দিনে দিনে সেই চিরচেনা দৃশ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হাওড়পাড়ের কৃষকরা আগের মতো ধান চাষে আগ্রহী নন; তাদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছেন অন্যান্য উৎপাদনমুখী ফসল চাষে।

বিশেষ করে চলতি বছর হাওড় অঞ্চলে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। কৃষকদের একটি বড় অংশ এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর লাভজনক হওয়ায় এ বছর তারা আরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ধান চাষে প্রতিবছরই আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন হাওড়ের কৃষকরা। মহাজনের দেনা পরিশোধের চাপও থাকে, ফলে তারা দিশেহারা হন। এই অবস্থায় কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কিশোরগঞ্জের হাওড়ে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষকরা জানান, বোরো ধানের আবাদে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক, কিন্তু লাভ খুব কম। বোরো ধানের জন্য প্রতি একরে খরচ হয় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি ফলন হয় ৬৫ থেকে ৭৫ মণ, যা বিক্রি করলে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। এতে লাভের পরিমাণ কম। বিপরীতভাবে, ভুট্টা চাষে খরচ কম, কম পরিশ্রম লাগে, ধানের তুলনায় কম সময়ে ফসল গোলায় যায় এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভুট্টা চাষ করলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। হাওড়ের পতিত জমি ও বোরো আবাদের অনেক জমিতেই এখন ভুট্টা চাষ হচ্ছে। ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং ফসল সংগ্রহের পর বাকি গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। হাওড়াঞ্চলে জ্বালানির সমস্যা সমাধানে ভুট্টা চাষ সহায়ক।

হাওড় অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের ফলে কৃষকরা বাজারজাতকরণে সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে কৃষকের জীবন ও চাষাবাদের ধরন বদলে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ‌্য অনুযায়ী, গত বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ফলন ঠিক থাকে, তাহলে এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে।

কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান জানান, হাওড়বেষ্টিত নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার আবাদ আগের চেয়ে বেশি হয়েছে। চাহিদা থাকার কারণে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তারা কৃষকদের নিয়মিত ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করছেন।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। হাওড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকি নেই, উৎপাদন খরচ কম এবং দামও ভালো পাওয়া যায়।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।