কাদা-পানিতে নাকাল মোড়ারকান্দির মানুষ, ২০ বছরেও হয়নি পাকা সড়ক
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের মোড়ারকান্দি গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘ ২০ বছরেও পাকা হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রায় চার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রাউতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোড়ারকান্দি গ্রামের আবদুল হেলিম মাস্টারের বাড়ি থেকে আবদুল হান্নানের দোকান হয়ে ঈদগাহ ও কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি মেছগাঁও গ্রামের শেষ সীমানার সঙ্গেও যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় বর্ষাকালে সড়কটির বিভিন্ন অংশে কাদা-পানি জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই দশক ধরে সড়কটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে পথচারীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কাদা-পানির কারণে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। আবার কেউ মারা গেলে কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে যেতেও পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সড়কটির সঙ্গে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠও যুক্ত থাকায় ঈদের দিন নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদেরও কাদা-পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়।
শিক্ষার্থীদেরও এ সড়কের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের আশপাশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় মেছগাঁও গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোড়ারকান্দির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ভেজা ও কাদামাখা অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
কৃষকরাও রয়েছেন বিপাকে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এ সড়ক দিয়ে বাজারে নিতে হয়। কিন্তু বর্ষায় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। অনেক সময় সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে না পারায় কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
মোড়ারকান্দি গ্রামের আবু বক্কর মিয়া, আবু তাহের, দীন ইসলাম, আবদুল হাকিম মিয়া, করিম মিয়া, রুস্তম আলী ও আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “২০ বছর ধরে আমরা এই কাঁচা রাস্তার কষ্ট সহ্য করছি। বর্ষা এলে মনে হয় আমরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কিংবা মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া—সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
তাঁরা বলেন, “ঈদগাহ ও কবরস্থানে যাওয়ার জন্যও যখন কাদা-পানি পেরোতে হয়, তখন এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? আমরা বড় কোনো দাবি করছি না। শুধু রাস্তাটি পাকা করে দিলেই কয়েক হাজার মানুষের জীবন অনেকটা সহজ হবে।”
রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস মিয়া বলেন, “আমি মেম্বার থাকাকালে প্রশাসনের সহযোগিতায় জনস্বার্থে এই সড়কটি তৈরি করেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে প্রায় চার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পাকা করা প্রয়োজন।”
বর্তমান ইউপি সদস্য হলুদ মিয়াও সড়কটি পাকাকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন তারিক বলেন, “বিগত দুই বছরে আমরা কোনো উন্নয়নমূলক বরাদ্দ পাইনি। তাছাড়া ওই সড়ক পাকাকরণে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রয়োজন। বর্তমান সংসদ সদস্যের তহবিল থেকে অধিকারভিত্তিক বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটি পাকাকরণ করা সম্ভব হবে। এতে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”
তাড়াইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওই সড়কটির ব্যাপারে রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্য উদ্যোগী হলে সড়কটি এতদিন কাঁচা থাকার কথা নয়। তাছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা একটু সরব হলেই সংসদ সদস্যের বরাদ্দে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এতদিনে সড়কটির পাকাকরণ হয়ে যেত।”
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া হবে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array