ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন, প্রশাসনের অবহেলা
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা নয়াপাড়া এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
গত সোমবার(৩০ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. আশরাফুল ইসলাম, মোনায়েম, ফারুক মিয়া, মফিজ মিয়াসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে শিশুদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বক্তারা জানান, এভাবে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নদী অববাহিকার আশপাশের জমি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বুধবার(১ এপ্রিল) আমাদের প্রতিবেদক পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। পরে তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি সম্ভবত পাকুন্দিয়া উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে না; এটি গফরগাঁও বা হোসেনপুর উপজেলার আওতায় হতে পারে। তাই বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাস্থল যে উপজেলার আওতাধীনই হোক না কেন, অবৈধ বালু উত্তোলন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা দ্রুত আন্তঃপ্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




