বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

নিকলীতে ঈদের চাল কেলেঙ্কারি: প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে ঈদের চাল কেলেঙ্কারি: প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের অপসারণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এর আগে গত রবিবার হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের আওতায় মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কর্মসূচির চাল প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অভিযোগ ওঠে। এ খবর পেয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে সিলগালা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ঈদের আগেই তা শেষ করার কথা ছিল। ছয়টি ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন হলেও কারপাশা ইউনিয়নে তা শেষ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৫৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অনেকের কাছ থেকে চাল প্রাপ্তির স্লিপ রেখে তাদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দার। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের চার দিন পরও চাল বিতরণ না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখেন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন গত ২৫ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে তালাবদ্ধ করেন।

এ ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো সিলগালা করেন।

মানববন্ধন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থক কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের হুমকি দেন এবং তাদের হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসবের জের ধরে তিনি এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও করেছিলেন, যা পুলিশ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আদিত্য হাছান সাজন জানান, “প্যানেল চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর নয়জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তা এখনো তদন্তের আলো দেখেনি।”

জেলা শহরের ব্যবসায়ী ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ রতন বলেন, “জামাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার আব্দুল হাই প্রতিজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে তিনি মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন অভিযোগ করেন, “মেম্বার, তার ছেলে এবং তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ বলেন, “মেম্বার ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে বাধা পেলেই মারমুখী আচরণ করে। সম্প্রতি ঘাগড়া নদীর পাড়ের ঈদগাহ মাঠে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে আমি আহত হয়েছি।”

৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আব্দুল হাই এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত মেম্বার আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে আমি কার্ড বিতরণ করেছি।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন।

বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় তীব্র পেট্রোল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার পৈলানপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১৭ ঘণ্টা থেকে দেড় দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পটিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে অবস্থান করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পের মালিক আরাফাত বাপ্পি জানান, “আগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। পাশের উপজেলাগুলোর পাম্প বন্ধ থাকায় কুলিয়ারচর ও নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।”

পেট্রোল নিতে আসা সরারচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সফিক মিয়া বলেন, “৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৭টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাই। পরিচিতদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণ পাচ্ছে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুতই আরেকটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ চালু করা হবে, এতে চাপ কমবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক এই সংকট দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”

কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পেট্রোল মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে করগাঁও ইউনিয়নের আলমগীরকে ১ লাখ টাকা এবং একই অপরাধে মো. কবির মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানকালে চান্দপুর ইউনিয়নের মানিকখালী বাজারে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার টাকা আদায়ের পাশাপাশি জব্দকৃত পেট্রোল ন্যায্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “বিনা অনুমতিতে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং পেট্রোল মজুদের মাধ্যমে জনস্বার্থহানি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত থাকে।”

অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।