নিকলীতে ঈদের চাল কেলেঙ্কারি: প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের অপসারণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
এর আগে গত রবিবার হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের আওতায় মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কর্মসূচির চাল প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অভিযোগ ওঠে। এ খবর পেয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করে সিলগালা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ঈদের আগেই তা শেষ করার কথা ছিল। ছয়টি ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন হলেও কারপাশা ইউনিয়নে তা শেষ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৫৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অনেকের কাছ থেকে চাল প্রাপ্তির স্লিপ রেখে তাদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দার। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের চার দিন পরও চাল বিতরণ না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখেন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন গত ২৫ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে তালাবদ্ধ করেন।
এ ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো সিলগালা করেন।
মানববন্ধন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থক কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের হুমকি দেন এবং তাদের হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসবের জের ধরে তিনি এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও করেছিলেন, যা পুলিশ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আদিত্য হাছান সাজন জানান, “প্যানেল চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর নয়জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তা এখনো তদন্তের আলো দেখেনি।”
জেলা শহরের ব্যবসায়ী ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ রতন বলেন, “জামাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




