বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

কুলিয়ারচরে খাল খনন কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে খাল খনন কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল সোয়া ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার।

সভায় খাল খনন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়ন কৌশল, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও স্বেচ্ছাশ্রম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান বলেন, “খাল খনন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ শাহাদাত হোসেন শাহ আলম বলেন, “খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। সফল বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে। এছাড়া খাল দখলমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ শাহাদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এসআরএমজি কিবরিয়া, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি সেচ) শাওন মালাকার, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ইউপি চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খাল খনন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার আব্দুল হাই প্রতিজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে তিনি মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন অভিযোগ করেন, “মেম্বার, তার ছেলে এবং তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ বলেন, “মেম্বার ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে বাধা পেলেই মারমুখী আচরণ করে। সম্প্রতি ঘাগড়া নদীর পাড়ের ঈদগাহ মাঠে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে আমি আহত হয়েছি।”

৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আব্দুল হাই এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত মেম্বার আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে আমি কার্ড বিতরণ করেছি।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন।

বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় তীব্র পেট্রোল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার পৈলানপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১৭ ঘণ্টা থেকে দেড় দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পটিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে অবস্থান করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পের মালিক আরাফাত বাপ্পি জানান, “আগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। পাশের উপজেলাগুলোর পাম্প বন্ধ থাকায় কুলিয়ারচর ও নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।”

পেট্রোল নিতে আসা সরারচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সফিক মিয়া বলেন, “৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৭টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাই। পরিচিতদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণ পাচ্ছে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুতই আরেকটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ চালু করা হবে, এতে চাপ কমবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক এই সংকট দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”

কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পেট্রোল মজুদ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে করগাঁও ইউনিয়নের আলমগীরকে ১ লাখ টাকা এবং একই অপরাধে মো. কবির মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানকালে চান্দপুর ইউনিয়নের মানিকখালী বাজারে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার টাকা আদায়ের পাশাপাশি জব্দকৃত পেট্রোল ন্যায্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “বিনা অনুমতিতে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং পেট্রোল মজুদের মাধ্যমে জনস্বার্থহানি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত থাকে।”

অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।