শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২

কুলিয়ারচরে ১৮শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও আউশ প্রণোদনা বিতরণ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে ১৮শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও আউশ প্রণোদনা বিতরণ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও আউশ চাষের প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি কৃষকদের মধ্যে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সুবিধাভোগী কৃষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছে। তিনি বলেন, খাল খননসহ কৃষি উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যকর হতে পারে। পাট চাষিদের সুবিধার্থে উন্নত মানের বীজ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তিনি দাবি করেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় মজুদের কারণে বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন প্রতিমন্ত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কুলিয়ারচর বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় কালী নদীতে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি নৌ-যোগাযোগ সচল রাখতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তদারকি করেন এবং লঞ্চঘাটে নতুন জেটি নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার, ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা।

গোলশূন্য ৯০ মিনিট, টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়-ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ ও টানা শিরোপা

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
গোলশূন্য ৯০ মিনিট, টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়-ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ ও টানা শিরোপা

মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের গোলশূন্য ড্রয়ের পর ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ফাইনালের শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান টাইব্রেকারের নির্ণায়ক শট নিতে দাঁড়ালে গ্যালারিতে থাকা হাজারো প্রবাসী বাঙালির হৃদস্পন্দন যেন থমকে যায়। তার নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শুরুতেই ভারতের ঋষি সিংয়ের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন। এরপর বাংলাদেশ ও ভারত পাল্টাপাল্টি গোল করতে থাকে। বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ, চন্দন ও বদলি নামা রিয়াদ ফাহিম সফলভাবে গোল করেন।

চতুর্থ শটে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসাম ক্রসবারে বল লাগালে স্কোর ৩-৩ সমতায় ফিরে আসে। তবে নাটকীয়তার শেষ ছিল পঞ্চম শটে—ভারতের ওমাং দোদাম বল পোস্টের ওপর দিয়ে পাঠালে বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। শেষ শটে রোনান সুলিভান নির্ভুলভাবে গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করেন।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশই ছিল তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। প্রথমার্ধেই কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। ১৩ মিনিটে রোনানের ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৯ মিনিটে মানিকের বাড়ানো বলেও গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দল জাতীয় পতাকা নিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠে। দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “দেশের হয়ে শিরোপা জিততে পেরে গর্ব হচ্ছে। দর্শকদের সমর্থন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

এদিকে, অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই কোচ মার্ক কক্সের প্রথম টুর্নামেন্ট এবং প্রথম শিরোপা। তিনি বলেন, “এই ফুটবলাররা হার মানতে জানে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে এবং দেশের জন্য খেলতে গর্ববোধ করে।”

অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৯ গোল করা ভারত ফাইনালে ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের ভাগ্যে হার মানতে হয়। ম্যাচ শেষে হতাশায় ডুবে থাকে ভারতীয় খেলোয়াড়রা।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে একই প্রতিপক্ষ ভারতের কাছে ফাইনালে হারের বেদনা থাকলেও এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশের তরুণরা। বয়সভিত্তিক ফুটবলে ধারাবাহিক এই সাফল্য দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

নিকলীতে ২৫ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
নিকলীতে ২৫ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পরকিয়া সম্পর্কের জেরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর আবির (২৮) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকা কেয়া (১৮) ও তার স্বামী মাহমুদুল হাসান রিয়ান (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুবি গ্রামের হাংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আবির উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবড়াটিয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় কৃষক রহিমুদ্দিনের বাড়িতে বার্ষিক চুক্তিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কেয়া রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার আ. রশীদের মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কেয়া ও মাহমুদুল হাসান রিয়ানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত ১৯ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

নিহত আবির ও মাহমুদুল হাসান ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। সেই সূত্রে আবির প্রায়ই মাহমুদুলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে মাহমুদুলের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গত ২ মার্চ মাহমুদুল হাসান স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে চট্টগ্রামে তার বাবার কাছে যান। এ সময় আবির কেয়ার সঙ্গে তোলা ছবি মাহমুদুলের কাছে পাঠান। পরে ৯ মার্চ ভোরে মাহমুদুল বাড়িতে ফিরে আসেন। একই দিন বিকেল থেকে আবির নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১৩ মার্চ নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর স্থানীয়দের মাধ্যমে ভুট্টাক্ষেতে একটি কঙ্কাল পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে। কঙ্কালের পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আবিরের বলে শনাক্ত করেন।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কেয়া ও তার স্বামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
চন্দিপাশায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার আব্দুল হাই প্রতিজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে তিনি মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন অভিযোগ করেন, “মেম্বার, তার ছেলে এবং তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ বলেন, “মেম্বার ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে বাধা পেলেই মারমুখী আচরণ করে। সম্প্রতি ঘাগড়া নদীর পাড়ের ঈদগাহ মাঠে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে আমি আহত হয়েছি।”

৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আব্দুল হাই এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত মেম্বার আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে আমি কার্ড বিতরণ করেছি।”

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন।