ভৈরবে হামের উপসর্গে হাসপাতালে শিশু ভর্তি, বাড়ছে উদ্বেগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে আইসোলেশন সেন্টারে ১১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও চর্মরোগের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও চর্মরোগ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। সম্ভাব্য হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালটিতে ৮ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক শিশুর অভিভাবক জানান, হঠাৎ করেই তাদের সন্তানদের জ্বর, সর্দি ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কয়েকদিন চিকিৎসার পর শিশুদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান তারা।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, “সারা দেশের মতো ভৈরবেও হামের প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। হামের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া অন্তর্ভুক্ত। গত কয়েক দিনে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন।”
তিনি আরও জানান, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছি। বর্তমানে ১১ জন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তারা হামে আক্রান্ত কি না।”
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও পরামর্শ দেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে আলাদা কক্ষে রেখে পরিচর্যা করতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও শিশুদের যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।













