মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

করিমগঞ্জে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে ব্র্যাক, বিতরণ হলো চারা গাছ ও হাঁস-মুরগি

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে ব্র্যাক, বিতরণ হলো চারা গাছ ও হাঁস-মুরগি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে চারা গাছ, হাঁস-মুরগির বাচ্চা, সবজির বীজ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ব্র্যাক ও আড়ং সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে করিমগঞ্জ ব্র্যাক শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাক আড়ং সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার ১১টি শাখা অফিসের আওতায় মোট ১ হাজার ২০০ জন অতি দরিদ্র সদস্যের মধ্যে ২ হাজার ৪০০টি চারা গাছ বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে করিমগঞ্জ শাখার ১৫০ জন উপকারভোগী সদস্যের প্রত্যেককে দুটি করে মোট ৩০০টি চারা গাছ দেওয়া হয়।

চারা গাছ বিতরণের পাশাপাশি ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) এবং মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির যৌথ অর্থায়নে পাঁচজন কিশোরীকে ২০টি করে হাঁসের বাচ্চা এবং জনপ্রতি ৩ হাজার ৯০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্যোগে আরও ২০ জন সদস্যের প্রত্যেককে ২০টি করে মুরগির বাচ্চা এবং তিন ধরনের সবজির বীজ বিতরণ করা হয়, যাতে তারা ক্ষুদ্র পরিসরে আয়বর্ধক কার্যক্রম গড়ে তুলতে পারেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, “ব্র্যাকের এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। বিতরণকৃত চারা গাছ, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য উপকরণ যথাযথভাবে পরিচর্যা ও ব্যবহার করলে পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি পাবে এবং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক কিশোরগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী সাফরিনা জান্নাত, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম) হোসনে আরা, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. জমির আলী, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মো. আশরাফ আলী, এরিয়া ম্যানেজার (দাবি) মো. জুলহিয়াস মিয়া এবং এরিয়া ম্যানেজার (প্রগতি) মো. মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া ব্র্যাকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. মোবারক হোসেন, শাখা ব্যবস্থাপক (ইউপিজি) মো. শফিকুল ইসলাম, অফিসার (সেলপ) মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, উপকারভোগী সদস্য ও ব্র্যাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপকারভোগীরা জানান, এ সহায়তা তাদের পারিবারিক আয় বাড়াতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে এবং ভবিষ্যতে ছোট পরিসরে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা এমন উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।