মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড কাউন্সিল ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এর আগে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুন দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও মর্যাদার প্রতি অবমাননা করা হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে কিশোরগঞ্জ জেলা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানকালে বক্তারা বলেন, হামলার কারণে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থায়ী সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে একটি উপযুক্ত স্থান বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উত্থাপিত দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ব্যানারে বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাজিতপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাজিতপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন এনজিও এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের কিশোরগঞ্জ জেলা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হাফিজা আক্তার। অনুষ্ঠানে বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এর আইনি কাঠামো, বিচারপ্রাপ্তির সহজ প্রক্রিয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রকল্পের বর্তমান পর্যায়ের কার্যক্রম ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, হিজড়া এবং দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতে ফৌজদারি ধরনের আবেদন দাখিলের জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি বিরোধের আবেদন দাখিলের জন্য ২০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়া মামলার জন্য অতিরিক্ত কোনো ব্যয় বহন করতে হয় না। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে ঘটনার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বসংক্রান্ত জটিল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর উপজেলা গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী মো. আমিনুল ইসলাম, ব্র্যাকের এরিয়া অফিসার আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংবাদকর্মীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে আরও অবগত হবেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

পাকুন্দিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যকারিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ আদালতের বাইরে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচারপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং প্রচলিত আদালতের ওপর মামলার চাপও হ্রাস পাবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রিফাত জাহান, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী হাফিজা আক্তার, পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার এবং উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী মো. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।

কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ ঘিরে সংবাদ সম্মেলন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ ঘিরে সংবাদ সম্মেলন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের বড়খাপন এলাকার এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দাবি করা স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী আইরিন আক্তার রিমার বিরুদ্ধে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বড়খাপন এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী আইরিন আক্তার রিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ‘রিজভী’ নামে তিন বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগী দাবি করা মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তার শ্যালক তাজুল ইসলাম বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এই আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

লিখিত অভিযোগে মোখলেছুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ২০ মে ২০২৬ সকালে তার স্ত্রী আইরিন আক্তার রিমা শ্যালকের পরামর্শে ঘর থেকে এক লাখ ছয় হাজার টাকা নগদ অর্থ, প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, জমির মূল দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং তিন বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টির সমাধানের জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।

এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় চারজনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বিবাদী হিসেবে আইরিন আক্তার রিমা (২৬), তাজুল ইসলাম (৩৫), মোছা. তাছলিমা (৩৮) এবং মোছা. শিরিন আক্তারকে (৩০) উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার চৌধুরীহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান।

মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বর্তমানে প্রতিপক্ষের লোকজন মোবাইল ফোনে তাকে নিয়মিত খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, আইরিন আক্তার রিমা, তার ভাই সাইদ ও তাজুল ইসলাম এবং তাদের বাবা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নরসিংদীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাজুল, সাইদুল, আব্দুর রাজ্জাক ও শিরিনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাও দায়ের হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চলমান মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, নরসিংদীর মামলায় রিমা ও তার বাবা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাজুল ইসলাম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে আদালত ও থানায় যাতায়াত করছেন এবং বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় একটি মামলার আসামি বিদেশে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।