কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ ঘিরে সংবাদ সম্মেলন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের বড়খাপন এলাকার এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দাবি করা স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী আইরিন আক্তার রিমার বিরুদ্ধে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বড়খাপন এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী আইরিন আক্তার রিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ‘রিজভী’ নামে তিন বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী দাবি করা মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তার শ্যালক তাজুল ইসলাম বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এই আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে মোখলেছুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ২০ মে ২০২৬ সকালে তার স্ত্রী আইরিন আক্তার রিমা শ্যালকের পরামর্শে ঘর থেকে এক লাখ ছয় হাজার টাকা নগদ অর্থ, প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, জমির মূল দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং তিন বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টির সমাধানের জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় চারজনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বিবাদী হিসেবে আইরিন আক্তার রিমা (২৬), তাজুল ইসলাম (৩৫), মোছা. তাছলিমা (৩৮) এবং মোছা. শিরিন আক্তারকে (৩০) উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার চৌধুরীহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান।
মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বর্তমানে প্রতিপক্ষের লোকজন মোবাইল ফোনে তাকে নিয়মিত খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, আইরিন আক্তার রিমা, তার ভাই সাইদ ও তাজুল ইসলাম এবং তাদের বাবা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নরসিংদীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাজুল, সাইদুল, আব্দুর রাজ্জাক ও শিরিনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাও দায়ের হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চলমান মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, নরসিংদীর মামলায় রিমা ও তার বাবা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাজুল ইসলাম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে আদালত ও থানায় যাতায়াত করছেন এবং বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় একটি মামলার আসামি বিদেশে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।







