সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে যুবদলের ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে যুবদলের ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাজহারুল ইসলামের পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেছে হোসেনপুর উপজেলা ও পৌর যুবদল।

‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে পড়েছেন। হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়াতুল হাসান সম্রাট এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এলাকায় এলাকায় লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও পথসভা করছেন।

প্রচারণাকালে বক্তারা বলেন, জননেতা মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের গণমানুষের পরীক্ষিত নেতা। তাঁর নেতৃত্বেই এ অঞ্চলে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাঁরা দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

এই নির্বাচনী প্রচারণা সফল করতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়াতুল হাসান সম্রাট, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ আহমেদ, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান সৌরভ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন, সদস্য আক্তারুল জামান লিটন, আড়াইভারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বদরুজ্জামান কিরণ, সিদলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজিব মিয়া, হোসেনপুর পৌর জাসদের আহ্বায়ক রাতুলসহ পৌর যুবদলের সদস্য নাসিরউদ্দিন, অনিক আহমেদ ও আরও অনেক নেতাকর্মী।

শেষে নেতাকর্মীরা বলেন, “দেশ ও দশের কল্যাণে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই”—এই অঙ্গীকার নিয়ে হোসেনপুরের প্রতিটি ঘরে ঘরে জননেতা মাজহারুল ইসলামের সালাম ও ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

তাড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
নরসুন্দা নদীতে ভেসে উঠল ৫ বছরের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পথচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাড়াইল সদর ইউনিয়নের বরুহা সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়া শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। পরে স্রোতের পানিতে ভেসে থাকা মরদেহটি ডিঙি নৌকার সাহায্যে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত শিশুর নাম তরিকুল ইসলাম (৫)। সে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের পংপাচিহা (জালদরপাড়া) গ্রামের ওমর ফারুক মিয়ার ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিদুন নবী দেওয়ান শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত সরারচর ডাকবাংলো, আবাসন সংকটে ভোগান্তি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরারচর ডাকবাংলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের অতিথি এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সংকটে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনাটি এখন ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত ডাকবাংলোটির অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ক্ষয় এবং জীর্ণতা দেখা দেওয়ায় এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে অবস্থান কিংবা কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, স্বাধীনতারও আগে প্রতিষ্ঠিত সরারচর ডাকবাংলো একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিশ্রামাগার হিসেবে পরিচিত ছিল। তিন কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভ্রমণকারী এবং সাধারণ যাত্রীরা রাতযাপনের সুযোগ পেতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি আজ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বাজিতপুর উপজেলা সদর থেকে সরারচরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ফলে রাতে ট্রেনে আগত যাত্রী কিংবা সরকারি কাজে আসা কর্মকর্তাদের জন্য এ এলাকায় নিরাপদ আবাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো ডাকবাংলোটি সংস্কার অথবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি গেদু মিয়া ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য নিজের জমি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ দান করেছিলেন। তাঁর দেওয়া জমির ওপরই পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে ডাকবাংলোটি নির্মিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খুশিদ উদ্দিন আহমদ খান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনায়েম খানের উদ্যোগে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকবাংলোর দেখভালের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এটি এখন পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে আধুনিক নকশায় বহুতল বা অন্তত দ্বিতল ডাকবাংলো নির্মাণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সুবিধা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরারচর এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, “সরারচর ডাকবাংলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সরারচর ডাকবাংলো দ্রুত সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণ করা হবে, যাতে এটি আবারও জনসাধারণ ও সরকারি কাজে ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

সংগ্রহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে সোমবার এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নজরদারি, টহল ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। পুরো ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।