কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন
শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি দেশের সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।
খসড়া অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), জেন্ডারভিত্তিক, ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।
অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ–এর খসড়াতেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশের খসড়া, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে পালন, গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সংরক্ষণ অধ্যাদেশসহ মোট ১১টি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশন (ক্যাট)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব এবং আমদানিনীতি আদেশ ২০২৫–২০২৮–এর খসড়াও অনুমোদন পায়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি কার্যকর আমদানিনীতি প্রণয়নের ওপর। নতুন নীতির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ এবং আসবাব শিল্পের মতো রপ্তানিমুখী খাত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েনের ফলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণায় সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।













