রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন

শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি দেশের সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

খসড়া অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), জেন্ডারভিত্তিক, ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ–এর খসড়াতেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশের খসড়া, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে পালন, গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সংরক্ষণ অধ্যাদেশসহ মোট ১১টি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশন (ক্যাট)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব এবং আমদানিনীতি আদেশ ২০২৫–২০২৮–এর খসড়াও অনুমোদন পায়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি কার্যকর আমদানিনীতি প্রণয়নের ওপর। নতুন নীতির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ এবং আসবাব শিল্পের মতো রপ্তানিমুখী খাত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েনের ফলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণায় সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

কিশোরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া চোরাই মোবাইলফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মোবাইলফোন মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি চোরাই মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন উদ্ধার অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তালুকদারকে সফল অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ কিশোরগঞ্জ মো. সাইফুল ইসলাম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া, পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোনের মালিকরা।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইলফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উপস্থিত অনেকেই বলেন, পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শতাধিক হেফজ বিভাগের মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ভাস্করখিলা এলাকার মিছবাহুল উলুম মাদরাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইজুল ইসলাম এবং জিয়া সাইবার ফোর্স কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুল হক খান জিকু।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাজন আহমেদ পাপন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি খায়রুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম নজরুল।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাউজ্জামান জুয়েল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউজে হোসেনপুর উপজেলা সভাপতি এস. কে. শাহীন নবাব, তাড়াইল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রিপন, দৈনিক নওরোজ-এর তাড়াইল প্রতিনিধি মজিবুল হক চুন্নু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল, সদস্য হাবিবুর রহমান, দুলাল, বাবুল ও অলিউল্লাহসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

ইফতার মাহফিলে মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া থানা এবং পৌরসদর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোভার স্কাউটের সদস্যরা।