শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশে নীতিগত অনুমোদন

শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি দেশের সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

খসড়া অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), জেন্ডারভিত্তিক, ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ–এর খসড়াতেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশের খসড়া, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে পালন, গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সংরক্ষণ অধ্যাদেশসহ মোট ১১টি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশন (ক্যাট)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব এবং আমদানিনীতি আদেশ ২০২৫–২০২৮–এর খসড়াও অনুমোদন পায়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি কার্যকর আমদানিনীতি প্রণয়নের ওপর। নতুন নীতির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ এবং আসবাব শিল্পের মতো রপ্তানিমুখী খাত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েনের ফলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণায় সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় ভৈরব, সংবাদ সম্মেলনের পরই আটক নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় ভৈরব, সংবাদ সম্মেলনের পরই আটক নেতা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে সেই সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় ভৈরব থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।

গ্রেপ্তারকৃত ওমর মোহাম্মদ অপু পৌর শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার মোমতাজ হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ড নিয়ে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অডিওটিতে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায় একজন ব্যক্তিকে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ওই অর্থের একটি অংশ এলাকার কিছু যুবক এবং প্রশাসনকে দিতে হবে।

ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওমর মোহাম্মদ অপু। সেখানে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর নকল করে একটি ভুয়া অডিও তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় পরই ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এতে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলার বাদী পপি বেগম অভিযোগ করেন, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তা সত্ত্বেও এলাকায় বসবাস করতে হলে তাকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হবে এবং বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়। এমনকি টাকা না দিলে তার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে চাঁদা দাবির অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি ভৈরবের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষ দাবি, অন্যদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে গ্রেপ্তার— পুরো ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “ভুক্তভোগী নারী পপি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওমর মোহাম্মদ অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবেন না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভ কিশোরগঞ্জে

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড মিটারের দীর্ঘ টোকেনে চরম ভোগান্তি, গ্রাহকসেবার দুর্বলতায় ক্ষোভ কিশোরগঞ্জে

প্রতীকি ছবি

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় ও প্রিপেইড মিটারের নিরাপত্তা হালনাগাদ কার্যক্রমের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো কিশোরগঞ্জেও দীর্ঘ টোকেন নম্বর নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে মাত্র ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করে সহজেই বিদ্যুৎ রিচার্জ করা যেত, সেখানে বর্তমানে ১৬০ থেকে ৩২০ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটারের ‘কি রিভিশন নম্বর’ (KRN) বা নিরাপত্তা কোড হালনাগাদের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার, ভ্যাট এবং সফটওয়্যারভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য মিটারে হালনাগাদ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই আপডেট সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন গ্রাহকরা। একটি সংখ্যা ভুল হলে পুরো টোকেন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ভুল কোড প্রবেশের কারণে মিটার সাময়িকভাবে লক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা আলমাছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ২০ ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটারে রিচার্জ করে আসছি। কিন্তু চলতি মাসে প্রায় ১৮০ ডিজিটের একটি টোকেন পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টি জানতে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে আমাকে বলা হয়, সব নম্বর একসঙ্গে প্রবেশ করতে হবে। পরে দেখি, ২০ ডিজিটের বেশি মিটারের স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে না। আবার যোগাযোগ করলে বলা হয়, মিটার নষ্ট হয়ে গেছে এবং নতুন মিটার নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরে অন্য একটি সূত্র থেকে জানতে পারি, প্রতি ২০ ডিজিট প্রবেশের পর সবুজ বাটন চাপ দিয়ে পরবর্তী অংশ প্রবেশ করতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাকে এ তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অযথা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।”

আরেক গ্রাহক রওফ মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগের হটলাইন বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।”

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, প্রিপেইড মিটারের নতুন টোকেন পদ্ধতি চালুর আগে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এসএমএস এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেন না। পাশাপাশি গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রাহকদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করলে জনদুর্ভোগ বাড়বে। তাই নতুন টোকেন পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সহজ ভাষায় নির্দেশনা প্রচার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা জরুরি।

এদিকে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক প্রচারণা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তখনই সফল হবে, যখন সাধারণ গ্রাহক সহজে ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

রেলস্টেশন দখল করে তাণ্ডব, ভৈরবে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যসহ ২৫

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
রেলস্টেশন দখল করে তাণ্ডব, ভৈরবে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যসহ ২৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রেলস্টেশন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতির অবনতির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের অন্তত ৯টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভৈরব রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বহু যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায়। উত্তেজিত লোকজন প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে থাকা একাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণে রেলপথে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এর মধ্যে ৩৭ আপ নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭০৩ আপ মহানগর গোধূলী ভৈরব বাজার জংশন আউটার সিগন্যালে, ৭১০ ডাউন পারাবত এক্সপ্রেস তালশহর, ৭২২ ডাউন মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ৭৩৯ আপ উপবন এক্সপ্রেস জিনারদী, ৮১৪ কক্সবাজার এক্সপ্রেস আড়িখোলা, ৭৪৯ এগারসিন্ধু গোধূলী দৌলতকান্দি, নরসিংদী কমিউটার খানাবাড়ি এবং ৬০৬ ডাউন মালবাহী ট্রেন মেথিকান্দা স্টেশনে আটকা পড়ে।

দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যাত্রী স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনের খোঁজে স্টেশন ত্যাগ করেন।

সংঘর্ষে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মুছা মিয়াসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়। পরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাত পৌনে ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে রেলস্টেশন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হামলাকারীরা স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষ শুরু হলে যাত্রীরা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকেন।”

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সামান্য খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা এবং রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।