ফাল্গুনের শুরুতেই হোসেনপুরে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে স্বর্ণালি আভা
চলছে ফাল্গুন মাস। এরই মধ্যে সর্বত্র গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। সামান্য দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই চোখে পড়ে—অসংখ্য আমগাছ ছেয়ে গেছে মুকুলে। ফাল্গুনের শুরুতেই প্রস্ফুটিত এসব মুকুল চারপাশে ছড়াচ্ছে হালকা স্বর্ণালি আভা।
দেশের অন্যান্য এলাকার মতো কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও আমের মুকুল উঁকি দিতে শুরু করেছে। গাছে গাছে আগাম মুকুলের দেখা পেয়ে বেশ খুশি চাষিরা। ইতোমধ্যে তারা বাগানের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। তবে এ বছর মাঘ মাসের শুরু থেকেই কিছু গাছে মুকুল প্রস্ফুটিত হতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার জিনারী, গোবিন্দপুর, সিদলা, আড়াইবাড়িয়া, পুমদি ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। কিছু কিছু গাছে মুকুলের পরিমাণ কম হলেও বাতাসে ছড়াচ্ছে মুকুলের সৌরভ। ভালো ফলনের আশায় বাগানের গাছগুলোর যত্ন নিতে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হোসেনপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো শীতের আমেজ থাকলেও আগাম জাতের আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলে ৩৫ থেকে ৪০ জাতের আম চাষ হয়। সারা দেশে রয়েছে প্রায় ২৫০ জাতের আম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফজলি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষীরসাপাত, হিমসাগর, কৃষাণভোগ, মল্লিকা, লক্ষণা, আম্রপালি, দুধসর, দুধকলম, বিন্দাবনী, আরজান, রাণী পছন্দ, মিশ্রিদানা, সিঁদুরী, আশ্বিনা এবং বিভিন্ন জাতের গুটি আম।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বারোমাসি বা স্থানীয় জাতের আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করে। তবে এ বছর জানুয়ারির শুরুতেই আগাম জাতের আমগাছে মুকুল দেখা গেছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আমগাছে ব্যাপকভাবে মুকুল আসে। এবার তুলনামূলক আগেই মুকুল প্রস্ফুটিত হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে প্রায় সব গাছেই মুকুল দেখা যাবে বলে জানান চাষিরা।
তাঁরা জানান, ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে আগাম মুকুল থেকেও ভালো আম পাওয়া সম্ভব। তবে নিয়ম অনুযায়ী মাঘের শেষ দিকে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলোতে ফলন তুলনামূলক ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমবাগানের সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছেন। তবে এ উপজেলায় এখনো বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ শুরু হয়নি বলে তিনি জানান।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array