বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইজন সংসদ প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশগুলো প্রদান করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি, কিশোরগঞ্জ-১। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রথম আদালত কিশোরগঞ্জের বিচারক মো. কাউছার আলম নোটিশে স্বাক্ষর করেন। নোটিশ জারি করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬)।

নোটিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদ মিয়া, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর মনোনীত প্রার্থী মো. এনামুল হক।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রার্থীকে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, দেয়াললিখনসহ সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পোস্টার প্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্ট কমপ্লেক্স এলাকায় প্রার্থীদের পোস্টার সাঁটানো থাকার বিষয়টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এই কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫–এর বিধি ৬ ও বিধি ৭(ক)-এর পরিপন্থী। বিধি অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি The Representation of the People Order, 1972–এর ৯১বি(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এ ছাড়া আচরণবিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে— কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ ভোটগ্রহণের তারিখের তিন সপ্তাহের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না।

এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি স্বপ্রণোদিত (Suo-motu) ক্ষমতা প্রয়োগ করে উভয় প্রার্থীকে আগামী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোসেনপুরে বিএনপি সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ, ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ, ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার ঘোষণা

হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মুবিনের ওপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নুর ভাই মনোয়ার জিনারী ইউনিয়নের বোর্ড বাজার এলাকায় অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোর্ড বাজার এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ করেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জহিরুল ইসলাম মুবিন শারীরিকভাবে আহত হন। ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবেও গভীরভাবে মর্মাহত হন বলে জানা গেছে।

হামলার পরপরই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এ ঘটনার জেরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জহিরুল ইসলাম মুবিন বলেন, “আমি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা সহিংসতায় বিশ্বাস করি না। ভোটের মাধ্যমেই এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র ও নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিদ্রোহী প্রার্থী ও জোটের দ্বন্দ্বে অস্বস্তি: কিশোরগঞ্জ–১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
বিদ্রোহী প্রার্থী ও জোটের দ্বন্দ্বে অস্বস্তি: কিশোরগঞ্জ–১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীকের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন দলেরই এক ‘বিদ্রোহী’ নেতা। অন্যদিকে, প্রচারণা শেষ হলেও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় স্বস্তিতে নেই ১১-দলীয় জোট। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও জোটের অন্য দুই শরিক দলের প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস মনোনীত দুই প্রার্থীই নিজেদের জোটের প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম খান (চুন্নু) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন। তিনি এর আগে নৌকার বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। দুই প্রার্থীই সদর ও হোসেনপুর উপজেলায় ভোটারদের কাছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসাদ্দেক ভূঁইয়া প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলী কাসেমী কেউই সরে দাঁড়াননি। দুজনই নিজ নিজভাবে জোটের প্রার্থী দাবি করে মাঠে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন। বিষয়টি সমাধানে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদীর পক্ষে স্থানীয় জামায়াত সমর্থন জানালেও দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী আহমদ আলী কাসেমী তা মেনে নিতে নারাজ। আহমদ আলীর দাবি, তিনিও জোটের বৈধ প্রার্থী, সে কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের কারণে জামায়াতের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি—কাকে সমর্থন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন সমর্থকেরা।

১১-দলীয় ঐক্যের কারণে জামায়াতের গোছানো সাংগঠনিক মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোটের দুই প্রার্থীর টানাপোড়েনে জামায়াতের ভোটারদের মধ্যে হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা বিরোধীদের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১-দলীয় জোটের এই অস্বস্তির সুযোগে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। ফলে ধানের শীষ ও মোরগ প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপি প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম দলীয় কোন্দল অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বহিষ্কারের আশঙ্কায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন।

মনোনয়ন নিয়ে শুরুতে কিছু বিরোধিতা থাকলেও শেষ সময়ে দলের একাংশ নেতা-কর্মী তাঁর পক্ষে এককাট্টা হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ধানের শীষের প্রার্থীই জয়ী হবেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম খান এলাকার পরিচিত মুখ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি অল্প সময়ের প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন। সে সময়ের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তিনি পরাজিত হলেও এবার ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে চমক দেখাতে পারেন বলে মনে করছেন ভোটারদের একাংশ।

ধানের শীষের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রেজাউল করিম খান বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এবং মোরগ প্রতীক নিয়েই তিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের মো. এনামুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) কাঁচি প্রতীকের আলাল মিয়া, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকের তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মই প্রতীকের মো. মাসুদ মিয়া।

সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেলের পিতার ইন্তেকাল

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেলের পিতার ইন্তেকাল

গাজী টিভি ও আমার দেশ পত্রিকার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মুনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেলের পিতা আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী আজ মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া একটার দিকে জেলা শহরের নগুয়া এলাকার ‘জামান ম্যানশন’-এ বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

তিনি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ বাদ এশা শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে হয়বতনগর সাহেববাড়ি গোরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় দৈনিক সকালবেলা ও আঞ্চলিক দৈনিক কিশোরগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেলের পিতার ইন্তেকালে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।