বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই গ্রামের জনসংখ্যা চার হাজারের বেশি। ফলে প্রায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কুন্দ্রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কার্তিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কাদামাখা ও দুর্ভোগপূর্ণ সড়ক পেরিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না; কমে যায় উপস্থিতির হারও।

তাড়াইল উপজেলায় মোট ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে এর কোনোটিই ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামের শিশুদের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে যাতায়াত করা সম্ভব হলেও বর্ষায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। কাদামাখা রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। ফলে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতির হারও কমে যায় বলে জানান অভিভাবকেরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্বের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বাড়ির কাছাকাছি গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁদের মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়ে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

বান্দুলদিয়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ হাজী রমজান আলী বলেন, ‘জীবন সায়াহ্নে এসে এখনও স্বপ্ন দেখি, এই গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন আর কষ্ট করে দূরের স্কুলে যেতে না হয়। আমরা অনেক বছর ধরে এই দাবি করে আসছি। জীবিত থাকা অবস্থায় যদি এই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখে যেতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নতুন নয়। এ দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর পক্ষে ইদিলপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুস ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়।

একই দাবিতে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে বান্দুলিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজ কর্মকর্তা শাহ আবুল হাশেম (মানিক) ঢাকার শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আবেদনের পরও সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে তাঁরা এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাননি।

ইদিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী বলেন, ‘আমাদের দুই গ্রামের শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে কাদামাখা রাস্তা পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘আমিও স্বীকার করি, ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া—এই দুটি গ্রামের মাঝামাঝি একটি বিদ্যালয় থাকা দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকারিভাবে নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। তবে নতুন করে কিন্ডারগার্টেন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমার যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি করব।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চার হাজারের বেশি মানুষের বসবাস এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকলে অন্তত একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বছরের পর বছর আবেদন-নিবেদনের পর এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এতে ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়ার কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা-ভোগান্তির অবসান হবে। আর হাজী রমজান আলীর মতো প্রবীণদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।

রিজভীর কাঁধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
রিজভীর কাঁধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার মহাসচিবের পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন রিজভী।সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭(খ) ৬ ধারা অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন রিজভী। রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলের বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনার কারণেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার বিষয়টি সামনে আসে। ২০১১ সালে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়া মির্জা ফখরুল ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।রিজভীর বর্তমান দায়িত্বকে আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির চলতি বছরের সম্ভাব্য জাতীয় কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বিএনপির দলীয় কাঠামো ও সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মহাসচিবের পদে রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন বলে আয়োজকেরা দাবি করেন।

পরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কামাল পাশা, নিহতের চাচা আইনজীবী ফরিদ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি বাহার মিয়া এবং নিহতের ছোট ভাই ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আলমগীর শিকদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা সব ব্যক্তি ও সহযোগীর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা সদরে নিজ বাসভবনের সামনে হামলার শিকার হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।

ওসি জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সংঘটিত হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সুগম করতে সহযোগীদের নিয়ে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে চাম্পা (৪৮)-এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের মোছা. হালিমা নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগানো দেখতে পান তাঁর মেয়ে চাম্পা। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে স্বজনরা দেখতে পান, মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। তাঁর নাক ও মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল এবং গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো ছিল।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই কিশোরগঞ্জ গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মামলার বাদী চাম্পার কথাবার্তায় অসংগতি পান তদন্তকারীরা। একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল করা হয়নি। পরে বিল্লাল জমিটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে জায়গাটি নিয়ে হালিমার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিবিআই বলছে, এ ঘটনার পর প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চাম্পা ও তাঁর সহযোগীরা।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে চাম্পার সহযোগীরা তাঁদের বাড়িতে আসে। আগের বিরোধ মীমাংসার কথা বলে চাম্পা তাঁর মাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন।

এরপর সহযোগীদের নিয়ে হালিমাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন চাম্পাই বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পিবিআইয়ের দাবি, প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সহজ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

পিবিআই জানায়, দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে চাম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি সংস্থাটির। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কিশোরগঞ্জের পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম, পরিদর্শক খাইরুল বাসার, পরিদর্শক নবী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।