শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হাসপাতালের ফটক ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক, রোগী টানতে দালালচক্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাসপাতালের ফটক ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক, রোগী টানতে দালালচক্র

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পেছনের ফটক ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালের ২০০ গজের মধ্যে রয়েছে অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শুধু জেলা সদরের এই হাসপাতাল নয়, জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশেও একই চিত্র দেখা গেছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা ফটকে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ঘিরে ধরেন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দালালেরা। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এতে একদিকে যেমন রোগীরা বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁদের স্বজনেরাও।জুলাইয়ের শেষ দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার দালালচক্রের তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও কিশোরগঞ্জে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আশপাশেই গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভৈরব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রয়েছে তিনটি, পাকুন্দিয়ায় পাঁচটি, করিমগঞ্জে চারটি, কটিয়াদীতে ছয়টি, নিকলীতে চারটি, মিঠামইনে দুটি এবং বাজিতপুরে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তাড়াইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় রয়েছে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হোসেনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রয়েছে চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি ক্লিনিক। কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও একটি ক্লিনিকের অবস্থান দেখা গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসুবিধা নেই। এরপরও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করে সেখানে নেওয়া হয়। কম খরচে উন্নত চিকিৎসা, দ্রুত পরীক্ষার রিপোর্টসহ নানা সুবিধার কথা বলে রোগীদের ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে রোগীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সঙ্গে হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নার্সদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়।কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালের পেছনের ফটক ঘেঁষে রয়েছে অন্তত ৯টি প্রতিষ্ঠান। ২০০ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁদের হয়ে নিয়োজিত দালালেরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে সময় বেশি লাগবে—এমন কথা বলে রোগীদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।গত ১৩ আগস্ট জেনারেল হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন ইয়াছিন বলেন, তাঁর ভাতিজার রক্ত পরীক্ষা করানোর সময় একজন ব্যক্তি তাঁকে জানান, হাসপাতালে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট পেতে তিন দিন লাগবে। বাইরে করলে এক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে। পরে বাধ্য হয়ে তিনি বাইরে পরীক্ষা করান।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে গড়ে উঠেছে পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় বড় সাইনবোর্ডের পাশাপাশি রোগী আকর্ষণে দালালদের তৎপরতা দেখা যায় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের একাংশের অসন্তোষও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সময়মতো না পাওয়া এবং রোগী ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।একই অভিযোগ করেছেন ১৩ আগস্ট হাসপাতালে আসা রোগী আনোয়ার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, টিকিট কাউন্টার থেকে হাসপাতালের বাইরের অংশ পর্যন্ত দালালদের তৎপরতা রয়েছে। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করালে চিকিৎসক ওষুধ দেবেন না—এমন ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।তবে হাসপাতালের প্যাথলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের ইনচার্জ মিজবাহ উদ্দিন আহমদ নিঝুম বলেন, হাসপাতালের আউটডোর প্যাথলজি বিভাগ সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চালু থাকে। ইনডোরের জরুরি প্যাথলজি সেবাও ২৪ ঘণ্টা দেওয়া হয়। একইভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগও ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে।হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সরিয়ে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নাজমুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। ওই চেকলিস্টে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দূরত্বের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।তিনি বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং ড্রাগ ও নারকোটিক-সংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। সবকিছু পর্যালোচনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে থাকে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীন বরণ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীন বরণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ‘কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম’-এর উদ্যোগে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল রহমান, সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-৫। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাককানইবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, রেজিস্ট্রার (প্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, জাককানইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং একই শাখার দপ্তর সচিব মামুন সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফাছরুন নাহার রুমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।

৭ মাসের শিশু হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
৭ মাসের শিশু হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ মাসের শিশু মোজাহিদকে হত্যার মামলায় স্বাক্ষর জাল, ঘুষ দাবি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না করে পক্ষপাতমূলকভাবে চার্জশিট দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত শিশুর মা তাসলিমা বেগম।

আলোচিত এ ঘটনায় মামলার তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা আক্তার হোসেন, ভাই হাকিম মিয়া ও চাচা সোহাগ মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা বেগম বলেন, তাঁর বাড়ি ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়ি একই গ্রামের পূর্বকান্দা এলাকায়। সংসারজীবনের প্রথম দিকে তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তবে তিনি গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাঁর ভাসুর মো. আল ইসলাম, শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসলিমা বলেন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি তাঁর ৭ মাসের ছেলে মোজাহিদকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এর কয়েক দিন পর তাঁর স্বামী মেরাজ মিয়া ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলেকে দাদার বাড়িতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। দুই দিন পরও সন্তানকে ফেরত না দেওয়ায় তিনি তাঁর বড় ভাইকে সন্তানকে আনতে পাঠান। সেখানে গিয়ে তাঁর ভাই লোকমুখে জানতে পারেন, শিশুটিকে নাকি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

পরদিন সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য তাসলিমা ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তদন্তের জন্য পুলিশ তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে কাউকে না পেয়ে প্রতিবেশীদের শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তাসলিমার ভাষ্য, এর পরদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার গোলাপ মিয়ার ডোবায় একটি শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর ছেলে মোজাহিদের লাশ শনাক্ত করেন। পরে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন ভৈরব থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। তাসলিমার দাবি, পুলিশ তখন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, শিশুটিকে ৪-৫ দিন আগে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এরপর তাসলিমা বাদী হয়ে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, মামলা করার পর আল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁদের বাবার বাড়িতে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যান বলে জানান তিনি।

তাসলিমা আরও অভিযোগ করেন, হত্যা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পুলিশকে জানানো হলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় র‍্যাবের সহযোগিতায় মামলার প্রধান আসামি তাঁর স্বামী মেরাজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করাতে সক্ষম হন বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে গেলে তিনি তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাসলিমা। এমনকি আসামিদের দেখিয়ে দিলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার না করে নানা ধরনের তালবাহানা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাসলিমা আরও বলেন, তাঁকে না জানিয়ে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজের মতো করে চার্জশিট আদালতে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা বেগম তাঁর ছেলে হত্যার পাশাপাশি বাবার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অনিয়ম, স্বাক্ষর জাল ও ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার ও দেশবাসীর সহযোগিতা চান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘুষ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারলে তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি তা মেনে নেবেন।

কিশোরগঞ্জে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও জালিয়াতির ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন আলী আকবর হৃদয় ও ভুক্তভোগী শাহনেওয়াজ সিরাজী সিহাবের পিতা।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলা নম্বর-০৭-এর এজাহার হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে একটি ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়। পরে ওই এজাহার ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আলী আকবর হৃদয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একই কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট এনামুল হক শেখের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে।