বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ঘোড়ার গাড়িতে ‘রাজকীয় বিদায়’, প্রধান শিক্ষককে সংবর্ধনা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঘোড়ার গাড়িতে ‘রাজকীয় বিদায়’, প্রধান শিক্ষককে সংবর্ধনা

filter: 109; fileterIntensity: 0.8; filterMask: 0; hdrForward: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ৩৭ নম্বর জ্ঞানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হায়দার রায়হানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় বিদায় জানান সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এবং এলাকাবাসী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ বিদায় আয়োজন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনেকেই এ আয়োজনকে ‘রাজকীয় বিদায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান উদ্দিন নাছির। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফ. খ. ম. সাজ্জাদুল মানিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আমিরুজ্জামান আরিফ এবং উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল গোস্বামী ও সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মেরিনা ইয়াসমিন, শিক্ষার্থী আদিয়া রহমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমিরুজ্জামান শরীফ ও কামরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রধান শিক্ষক নুর হায়দার রায়হান বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর অবদান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নুর হায়দার রায়হানের হাতে সম্মাননা স্মারক ও আলোকবর্তিকা তুলে দেওয়া হয়। পরে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩৭ নম্বর জ্ঞানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৮৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

নুর হায়দার রায়হান ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অবসর গ্রহণ করবেন।

বিদায় সংবর্ধনার শেষ পর্যায়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ছিলেন।

প্রিয় শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের দৃশ্য উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগ ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করে। ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রধান শিক্ষককে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।

রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

শাহীন আলম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে ইতিহাসের পাতায় লেখা দুটি মহাকাব্যিক ইনিংস—তামিম ইকবালের ৩৩৪ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০। বিস্ময়করভাবে, দুই ঐতিহাসিক কীর্তির সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে রেজাউর রহমান রাজার নাম।

২০২০ সালে তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসের পর মাঠে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন রাজা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে এবার নিজেই হয়ে উঠলেন আরেক ইতিহাসের অংশ- তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ছিলেন তাঁর ব্যাটিং সঙ্গী, দৃঢ় হাতে সামলেছেন অন্য প্রান্ত।

একবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, আরেকবার ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।

তামিমের ৩৩৪ থেকে হৃদয়ের ৩৫০—দুই প্রজন্মের দুই মহাকাব্য, আর দুটির মাঝখানে এক রাজা।
বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের এই গল্পে রেজাউর রহমান রাজা তাই শুধু একজন ক্রিকেটার নন—তিনি হয়ে থাকলেন ইতিহাসের দুই স্মরণীয় অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ও সহযাত্রী।

‘১৬ বছর টাকা পাঠিয়েছি, দেশে ফিরে রাস্তায়’- হোসেনপুরে প্রবাসীর অভিযোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
‘১৬ বছর টাকা পাঠিয়েছি, দেশে ফিরে রাস্তায়’- হোসেনপুরে প্রবাসীর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. বাবুলের ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, মারধর এবং স্ত্রী-সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মা, বোন, বোন জামাই ও মামার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোসেনপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাবুল। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় হোসেনপুর মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবুল তার ওপর কথিত নির্যাতন, কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং স্ত্রী-সন্তানসহ বাড়ি থেকে বিতাড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার, সন্তান, ভাবি মোছা. রোকসোনা খাতুনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেনপুর উপজেলার গকুলনগর গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ও তাঁর বড় ভাই মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন।

হোসেনপুর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বাবুল উল্লেখ করেন, প্রবাসে থাকাকালে তিনি বিভিন্ন সময়ে তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখ টাকা এবং আপন বোনের ব্যাংক হিসাবে আরও ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। তাঁর দাবি, সব মিলিয়ে ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দেশে পাঠিয়ে ওই দুই হিসাবে জমা রাখেন তিনি।

বাবুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে ওই টাকা ফেরত চাইলে তাঁর মা, বোনসহ সংশ্লিষ্টরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁকে কোনো হিসাব দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে বাবুল আরও দাবি করেন, তিনি ও তাঁর বড় ভাই দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুযোগে তাঁদের স্ত্রীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর স্ত্রী সাদিয়া আক্তার এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী রোকসোনা খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে তাঁরা সন্তানদের নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে হোসেনপুর থানাধীন আশুতিয়া নতুন বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

বাবুলের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে আনা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ বাড়িতে যান। তাঁর সঙ্গে ৮ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ছিল, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ত্রীর জন্য এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের গলার চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, এক জোড়া কানের ঝুমকা এবং একটি আংটি ছিল। এগুলোর মোট আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাবুল অভিযোগ করেন, বাড়িতে প্রবেশের পর তাঁর আপন বোন ও মা তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে বসতঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বাবুল।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবুল বলেন, ‘আমি ১৬ বছর প্রবাসে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছি বাবার বাড়িতে থাকব বলে। আজ আমার মা-বোনই আমার টাকা আত্মসাৎ করে আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফিরে নিজের পরিবারের কাছেই তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে তাঁর পাঠানো অর্থের হিসাব বের করে টাকা ফেরত এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

হোসেনপুর থানায় দেওয়া অভিযোগে বিবাদী হিসেবে মোছা. সুমাইয়া খাতুন (৩০), মো. পারভেজ আহমেদ, মোছা. আজুরা খাতুন (৬০) ও মো. বকুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে সুমাইয়া খাতুনকে বাবুলের আপন বোন, পারভেজ আহমেদকে বোন জামাই, আজুরা খাতুনকে মা এবং বকুল মিয়াকে মামা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বকুল মিয়ার ঠিকানা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অসুস্থ দাদিকে দেখতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
অসুস্থ দাদিকে দেখতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

অসুস্থ দাদিকে দেখতে পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল পাঁচ বছরের শিশু মো. আশিক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দেই সময় কাটছিল তার। তবে সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে মারা গেছে শিশুটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আশিক সুন্দরবন গ্রামের মো. তানজিল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় পোস্টমাস্টার মো. তাজুল ইসলামের নাতি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আশিকের বাবা মো. তানজিল মিয়া জীবিকার প্রয়োজনে চট্টগ্রামে থাকেন। সম্প্রতি আশিকের দাদি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে আশিক। কয়েক দিন ধরে পরিবারের সঙ্গেই ছিল সে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায় আশিক। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত পুকুরে নেমে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আশিককে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অসুস্থ দাদিকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে এসে নাতির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

নিকলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’