বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মাসে মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধান ফেরাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাসে মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধান ফেরাচ্ছে সরকার

মাসে মাসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বিবরণী দাখিলের যে বিধান বাজেটে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে চলতি অর্থবছর থেকে প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধান চালু করা হয়েছিল। এর আগে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

সংশোধিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি তিন কর মেয়াদ বা তিন মাস শেষে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের জন্য ১৫ দিন সময় থাকে। নতুন বিধান কার্যকর হলে প্রত্যেক কর মেয়াদ বা প্রতি মাস শেষে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, পনেরোতম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাস শেষে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য ২০ দিন সময় থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে’ এ-সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে নতুন অর্থবছরের প্রায় তিন মাস শেষ হতে চললেও প্রথম দুই মাসের রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশ করেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে রাজ

দুই ঘণ্টায় ‘সংশোধন’ থেকে ‘বাতিল’, পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
দুই ঘণ্টায় ‘সংশোধন’ থেকে ‘বাতিল’, পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের আবেদন করে বিপাকে পড়েছেন মো. অপু মিয়া। একই দিনে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর মুঠোফোনে প্রথমে ‘সংশোধনের প্রয়োজন’ এবং পরে ‘আবেদন বাতিল’- সংক্রান্ত দুটি এসএমএস আসে। আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে আগের একটি পাসপোর্টের তথ্য গোপনের কথা জানানো হলেও, ওই পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে আবেদনকারীর নাম, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মো. অপু মিয়া কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য ও আঙুলের ছাপ দেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পর ওই দিন বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ‘ইপাসপোর্টবিডি’ থেকে তাঁর মুঠোফোনে একটি এসএমএস আসে।

এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটির ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।’

সংশোধনের বিষয়টি জানার চেষ্টা করার আগেই প্রায় দুই ঘণ্টা পর, একই দিন বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তাঁর মুঠোফোনে আরেকটি এসএমএস আসে।

দ্বিতীয় এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় মো. অপু মিয়া, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটি কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে।’

একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরস্পরবিরোধী দুটি বার্তা পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েন মো. অপু মিয়া। আবেদনটি প্রথমে সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়ে পরে কেন বাতিল করা হলো—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আবেদন বাতিলের কারণ জানতে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান মো. অপু মিয়া। তাঁর দাবি, সেখানে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম তাঁকে জানান, তাঁর নামে আগে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের একটি পাসপোর্ট রয়েছে।

আগের পাসপোর্টের তথ্য গোপন করে নতুন আবেদন করায় বর্তমান আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়। একই সঙ্গে আগের পাসপোর্টটি হারিয়ে থাকলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করতে বলা হয় বলেও জানান তিনি।

তবে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন মো. অপু মিয়া। তাঁর ভাষ্য, ওই পাসপোর্টে নাম রয়েছে ‘হৃদয়’। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫১২৩১৯২৩৬০ এবং জন্মতারিখ ১ অক্টোবর ১৯৯৯ উল্লেখ রয়েছে।

ওই পাসপোর্টে পিতার নাম মো. কবির হোসেন এবং মাতার নাম মোছা. রুমা খাতুন উল্লেখ রয়েছে বলে জানান মো. অপু মিয়া। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া রয়েছে ফুলবাড়ী, ঝিকরগাছা, কায়েমখোলা বাজার-৭৪২০, যশোর।

মো. অপু মিয়ার দাবি, ওই পাসপোর্টে থাকা নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো মিল নেই।

আবেদন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, ‘পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন’ সংক্রান্ত এসএমএস যাওয়ার পর আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বর্তমান আবেদন বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চালানও বাতিল হবে বলে মো. অপু মিয়াকে জানানো হয়েছে। নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করলে নতুন চালান দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

আগের চালানের টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও কিছু অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও আবেদনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো আবেদনকারীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর আবেদনে ঐচ্ছিক থাকলেও তা দিতে বলা হচ্ছে। পেশা ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ থাকলে পেশাগত পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে। আবার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আবেদনকারীর নামের অমিল থাকলে কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নামের বানানে পার্থক্য থাকলেও আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, একটি আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় একই ব্যক্তির নামে আরেকটি আবেদন করার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। পরবর্তীতে হয়রানির কারণে কেউ আবেদন বাতিল করতে চাইলে সেখানেও বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল করে পরদিন নতুন করে আবেদন নিয়ে আসতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কোনো আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি দিতে না পারলে আবেদনটি পরবর্তী সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় বলে আবেদনকারীদের জানানো হচ্ছে। তখন আলাদাভাবে আবেদন বাতিলের জন্য আবেদন না করলেও আগের আবেদন আর কার্যকর থাকে না এবং পরদিন নতুন করে আবেদন করতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এতে একদিকে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও দূরবর্তী এলাকার মানুষকে বারবার পাসপোর্ট অফিসে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

সরকারি ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমে পেশা, বৈবাহিক অবস্থা ও আবেদনকারীর বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন কাগজপত্র বাধ্যতামূলক এবং কোন পরিস্থিতিতে আবেদন ফেরত বা বাতিল করা হবে—এ বিষয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ও আবেদন যাচাইয়ের নিয়ম যদি আগে থেকেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে একই আবেদন বারবার ফেরত দেওয়া হচ্ছে কেন? কোনো ত্রুটি থাকলে তা একবারে জানিয়ে সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে কেন আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

পাশাপাশি প্রতিদিন ফেরত যাওয়া আবেদনের প্রকৃত সংখ্যা, কী কারণে আবেদনগুলো ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন বাতিলের বিষয়ে প্রচলিত নিয়ম কী—এসব বিষয় যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মো. অপু মিয়ার দাবি, তাঁর ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের আবেদনটি কেন বাতিল করা হলো, অন্য একটি পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে তাঁর আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হলো এবং প্রথমে সংশোধনের বার্তা পাঠানোর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভিমরুলের কামড়ে আহত দুই শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
ভিমরুলের কামড়ে আহত দুই শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকায় ভিমরুলের কামড়ে আহত দুই শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভিমরুলের কামড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত দুই শিশু হলো—আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গয়েশবাড়ী গ্রামের নয়ন হোসেনের ছেলে রোহান হোসেন (৩) এবং একই এলাকার সুজন হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪)। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মজিবর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রোহান ও আরাফাত খেলতে বের হয়েছিল। খেলাধুলার একপর্যায়ে তারা একটি ভিমরুলের বাসা দেখতে পায়। পরে পাটখড়ি দিয়ে বাসাটিতে খোঁচা দিলে ভিমরুলের দল বের হয়ে এসে তাদের কামড় দেয়। এতে দুই শিশু গুরুতর আহত হয়।

শিশুদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই শিশুকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তাদের মৃত্যু হয়।

দুই শিশুর মৃত্যুতে গয়েশবাড়ী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, হোসেনপুরে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, হোসেনপুরে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে লাইসেন্স ছাড়া মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রি, সরকারি অনুমোদনহীন কোম্পানির ওষুধ এবং গবাদিপশুর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রির লাইসেন্স না থাকা, সরকার কর্তৃক অননুমোদিত কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করা এবং গবাদিপশুর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অপরাধে মৎস্য খাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ অনুযায়ী দুই ব্যবসায়ীকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির এবং হোসেনপুর থানা পুলিশের একটি দল।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর বাজারের কিছু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়া মৎস্য ও পশুখাদ্য এবং সরকারের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভেটেরিনারি ওষুধ খামারিদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। এসব পণ্য গবাদিপশু ও মৎস্যসম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির বলেন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।