বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা সরকার করছে না এবং এমন কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সময় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। সাক্ষাতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে। সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অফিস অব কমিউনিকেশনস (অফকম) ও বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রশাসনের ভেতরে পতিত সরকারের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের ভেতরে পতিত সরকারের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে: রিজভী

প্রশাসনের ভেতরে পতিত সরকারের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে: রিজভীপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বসে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ এখনও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ডেঙ্গু সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। রিজভী বলেন, প্রিজন ভ্যান থেকে মাদক কারবারির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, পতিত সরকারের অনুসারীরা এখনও বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। প্রশাসনের ভেতরে তাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, জনস্বার্থে সরকার ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করেছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। শাহবাগের কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সরবরাহ সংকটের শঙ্কা, বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটের শঙ্কা, বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে। সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে এ মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০১.৫১ ডলারে উঠেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৮২ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়েছে। এ দাম প্রতি ব্যারেল ৯০.২৫ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঝড়কে দেখা হচ্ছে। এতে দেশটির তেল উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলাও মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নতুন করে জোরালো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।

বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন সরবরাহ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের ঝড়ের প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে। এসব ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

অক্টোবরে সরকারের রেকর্ড ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদন প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে সরকারের রেকর্ড ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের পরিকল্পনা

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বকেয়া পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ সরকারের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে ব্যাংকব্যবস্থার দিকে বড় পরিসরে হাত বাড়াচ্ছে সরকার। শুধু অক্টোবরেই ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ধার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে কোনো এক মাসে সরকারের সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা।

সরকারের অর্থের ওপর চাপ তৈরির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত গতি না থাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে নতুন অর্থ পাওয়ার চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অর্থের ঘাটতি বাড়ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও বাড়ছে।

সরকারের ধার করা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবশ্য সরাসরি নতুন ব্যয়ে যাচ্ছে না। আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধ এবং পুরোনো দায় পুনঃঅর্থায়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়ায় অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় সরকারের এই ঋণ নেওয়ার কারণে সুদের হারে বড় ধরনের চাপ পড়ার আশঙ্কা কম।

সরকার ইতোমধ্যে অক্টোবরের ঋণ সংগ্রহ শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বন্ড নিলামে মোট ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর মধ্যে তিন বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ সুদে ৮০০ কোটি টাকা এবং দুই বছর মেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার ট্রেজারি বিলের নিলাম থেকে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। অক্টোবরের বাকি সময়ে বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অর্থাৎ, চলতি মাসে বিল ও বন্ড মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে সংগ্রহের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।

সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা শুধু অক্টোবরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী নভেম্বর মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ড মিলিয়ে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরেও এ দুই মাধ্যমে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ করেছে সরকার। জুলাইয়ে নিলামের মাধ্যমে ৫৬ হাজার কোটি টাকা, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বাড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

আগস্টের শেষে সরকারের মোট ব্যাংকঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—দুই উৎস থেকে ঋণের প্রবণতা এক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণ ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা কমেছে। আগস্ট শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই খাত থেকে ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। আগস্ট শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

তবে আগের অর্থবছরের অভিজ্ঞতা বলছে, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যাংকঋণ নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ঋণের গতি এবং অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা তাই সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।