বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ দশক ধরে ১ টাকায় শিশুদের পড়ান লুৎফুর, পেলেন সরকারি সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৫ দশক ধরে ১ টাকায় শিশুদের পড়ান লুৎফুর, পেলেন সরকারি সম্মাননা

দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান। বিনিময়ে প্রতিদিন নেন মাত্র এক টাকা। এ কারণেই তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘এক টাকার মাস্টার’ নামে।

দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাসেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। দেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের সঙ্গে সম্মাননা পেয়েছেন লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাকে সরকারি অবসরভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

লুৎফুর রহমান গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের একটি বাঁধ এলাকায় বসবাস করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি ওই এলাকার নদীতীরবর্তী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন।

অর্থের অভাবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে, তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই ছিল লুৎফুর রহমানের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতিদিন মাত্র এক টাকা নিয়ে নিজের উদ্যোগে শিশুদের পড়ানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে গাইবান্ধায় তিনি ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা না করেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার কাছে পড়াশোনা করেছে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তার এই উদ্যোগ এখন অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমানের দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবাকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে সরকারি অবসরভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

এবারের ১০২ জন সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকের তালিকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষকরা ছিলেন। বিশেষ ক্যাটাগরিতে লুৎফুর রহমান ছাড়াও ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধ স্বীকার না করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন কঠিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
অপরাধ স্বীকার না করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন কঠিন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ অসম্ভব নয়। তবে এ প্রক্রিয়া শুরুর আগে দলটিকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা করা কঠিন। আওয়ামী লীগকেই এ বিষয়ে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। দলের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে এর আগে রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু করা কঠিন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলের প্রধান নেত্রী– তিনি এখনও দোষারোপ করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। এ জন্য সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না– এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোলাবাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। তিস্তা প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, বর্ষার পানি কীভাবে ধরে রাখা যায়– ওয়াটার রিটেনশনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করেই পদক্ষেপ নেবে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হবে– সরকার এমনটি মনে করে না। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যাতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
ভিজিএফের চাল ২০ কেজি করার উদ্যোগ
নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আলম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিরোনাম সহ সম্পাদনা

বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

অনুমোদিত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৈদেশিক অর্থায়নের আওতায় আন্তঃসীমান্ত পরিশোধের কার্যক্রম সহজ করতে বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং/অথবা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন নিতে হবে।

অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবার মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে সার্কুলারে। ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ অনুমোদিত বৈদেশিক অর্থায়নের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু, তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু, তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রে সংক্রামক প্লেগে এক কর্মীর মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে মস্কোর কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছে ওয়াশিংটন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে প্লেগের বিস্তার ঠেকাতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাকেও তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোলামেলা তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে আরও তথ্য চেয়েছি। তথ্য বিনিময়ের জন্য বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘ডিমার্শে’ নামে পরিচিত একটি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আইসল্যান্ড সফরের সময় মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে স্বচ্ছ থাকতে এবং বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশি তথ্য বিনিময় করার আহ্বান জানাই। এতে আমরা সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব।’

পরে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় আসলে কী ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁর (পুতিন) সঙ্গে আমার ফোনালাপের সূচি নির্ধারিত আছে। খুব শিগগিরই ফোনালাপ হবে।’

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী তথ্য দিচ্ছে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব গভীর আলোচনার মধ্যে আছি। সম্ভবত আগামীকাল (বুধবার) এ বিষয়ে তথ্য জানাতে পারব।’গত শুক্রবার রাশিয়ার গণমাধ্যম ‘পিপল অব বৈকাল’ জানায়, মারা যাওয়া ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও পরীক্ষাগারে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার সঙ্গে দারিয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

‘পিপল অব বৈকাল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিয়ার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রোসপোট্রেবনাদজোর এ দাবি অস্বীকার করেছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা রাশিয়ার কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরকুতস্ক শহরে বিপজ্জনক কোনো রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।

তবে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস মস্কোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক ধরনগুলোর একটি, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে, বিউবনিক প্লেগ সাধারণত সংক্রমিত পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।

ডব্লিউএইচওর মতে, নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

সোমবার ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর জবাবে মঙ্গলবার রোসপোট্রেবনাদজোর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত মস্কো।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রুশ সংস্থাটি। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে দেশটিতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর রাশিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের কর্মীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই সম্মেলনের কোনো সম্পর্ক নেই।