বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘সরকারি গাছ কাটছি, এখন কী হয়েছে?’- যশোদলে গাছ কাটা ঘিরে নানা প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘সরকারি গাছ কাটছি, এখন কী হয়েছে?’- যশোদলে গাছ কাটা ঘিরে নানা প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে এমন উদ্যোগের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় সড়কের পাশের একটি সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে স-মিলের গাড়ির ধাক্কায় গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জমির মালিকদের সহায়তায় সেটি কেটে ফেলা হয়। জমির মালিকদের একজন গাছ কাটার কথা স্বীকার করলেও গাছটি কাটার বিষয়ে সরকারি কোন অনুমতি ছিল না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাপাড়া গাছবাজার এলাকায় সাইদুর রহমানের স-মিলের সামনে সড়কের পাশে গাছটি ছিল। প্রায় ৭-৮ মাস আগে মামুন ও মিজান নামের দুই ভাইয়ের জমি ভরাট করে স-মিলের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, জমি ভরাটের সময়ও সেখানে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য, সড়কের পাশের গাছগুলো সরকারি উদ্যোগে লাগানো হয়েছিল। জমির মালিকেরা অন্য গাছগুলো নিজেদের উদ্যোগে লাগানো বলে দাবি করলেও একটি গাছকে সরকারি গাছ হিসেবে চিহ্নিত করে রেখে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি স-মিলের কাঠ বা গাছ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত গাড়ি আনা-নেওয়ার সময় সাইদুর রহমানের গাড়ির ধাক্কায় গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জমির মালিকদের সহায়তায় গাছটি কেটে ফেলা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

গাছ কাটার বিষয়ে এক সচেতন বাসিন্দা প্রশ্ন তুললে স-মিলের মালিক ও জমির মালিকেরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁদের কেউ কেউ বলেন, ‘গাছ কাটছি তো কী হয়েছে। এসব সরকার আমরা পকেটে নিয়ে ঘুরি।’

নিজস্ব সূত্রে খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদক জানতে পারেন, কয়েক দিন আগেই গাছটি কাটা হয়েছে। সে সময় জমির মালিকদের পাওয়া যায়নি। স-মিলের ব্যানারে দেওয়া দুটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, নম্বর দুটি স-মিলের মালিকের নয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানারে যোগাযোগের নম্বর নিয়ে এ ধরনের অসংগতিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরে স-মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফের কাছ থেকে সাইদুর রহমানের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাইদুর রহমান গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, গাছটি জমির মালিকেরা কেটেছেন। গাড়ির ধাক্কায় গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বলেন, রাতের বেলায় কেউ এ কাজ করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, গাছটি কাটার ঘটনায় সাইদুর রহমানও জড়িত।

জমির মালিক মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, গাড়ির ধাক্কায় গাছটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দিনের বেলায় সবাইকে নিয়ে সেটি কেটেছেন। গাছটি সরকারি কি না, জানতে চাইলে তিনি সেটি সরকারি গাছ বলে স্বীকার করেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সরকারি গাছ কাটছি, এখন কী হয়েছে?’ এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকারকে হেয় করে মন্তব্য করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

স্থানীয় অভিযোগকারীদের মতে, সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে ফেলায় সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ বা উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা থাকলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তাঁরা ঘটনার তদন্ত করে গাছটির মালিকানা ও কাটার অনুমতির বিষয়টি যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে তাঁদের কারও নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জমির মালিকদের একজন মামুন যশোদল উচ্চবিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক নেতার সুপারিশে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ২২ বছরে দিশারী, কিশোরগঞ্জে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ২২ বছরে দিশারী, কিশোরগঞ্জে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইসলামী সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে ২২ বছরের পথচলা উদ্‌যাপন করেছে দিশারী সাহিত্য সাংস্কৃতিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ। এ উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মুহাম্মাদ ইসরাইল মিঞা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদের (দা.বা.)। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন মুফতী শরীফ জামী।

বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন কিংবদন্তি ইসলামী সংগীতশিল্পী এবং ঢাকার দাবানল শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে ইসলামী সংগীত, সাহিত্য ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে।

নিকলীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
নিকলীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি উপজেলা যুবদলের কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলা ১১টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা সৈয়দ হাসানুল হুদা।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম এবং সহসভাপতি আবু সাঈদ রতন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একটি চক্র সরকারের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দলীয় আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করতে যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় স্থানীয় নেতারা নিকলী উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবদলের সব কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। তাঁদের মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় সরকার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম চালু, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারের অগ্রাধিকার ও উদ্যোগের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি, জার্মান, ফরাসিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পাশাপাশি শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন। মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের বাংলাদেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সম্পৃক্ত করে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

সভায় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে প্রবাসী এবং দেশে বসবাসকারী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’

দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রত্যেক বাংলাদেশির দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।