বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রধানমন্ত্রীর

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসারে ইতিমধ্যে নীতিগত সহায়তা, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চায় সরকার। নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এখন আর কেবল সম্ভাবনার বিষয় নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা। সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে আইনি ও নীতিগত বাধা দূর করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের ভালো উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দসহ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানো এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ সৃষ্টি, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি খাতে ব্রুনাইয়ের বিনিয়োগ চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
জ্বালানি খাতে ব্রুনাইয়ের বিনিয়োগ চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রমে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগের জন্য ব্রুনাই দারুসসালামকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) ফাঁকে ব্রুনাইয়ের দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দাতো সেরি সেতিয়া ড. আওয়াং হাজি মোহাম্মদ আমিন লিউ বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি ব্রুনাইকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতেও বিনিয়োগের জন্য ব্রুনাইকে উৎসাহিত করেন।

জনশক্তি সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, ব্রুনাইয়ের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে আরও দক্ষ, আধা-দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

এ সময় ব্রুনাইয়ের দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দেশটির অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্রুনাইয়ের সুলতানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অচলাবস্থা

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় যান চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সংঘর্ষের কারণে টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে গণপরিবহন ঘুরিয়ে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকে পড়া বাসগুলো নিরাপত্তার কারণে যাত্রী নামিয়ে ঢাকাসহ কাছাকাছি নিরাপদ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুরের বাংলাবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, বাসন, হাড়িকেন ও বোর্ডবাজারের সাইনবোর্ড এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গণপরিবহন টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে পাঠানো হচ্ছে। কিছু বাসের যাত্রীদের নামিয়ে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

টঙ্গী স্টেশন রোডে ঢাকাগামী ভিআইপি পরিবহনের চালক বাসার মিয়া বলেন, ‘সামনে গোলমাল, তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।’ বসুমতি ও অনাবিল পরিবহনের চালকেরাও একই ধরনের কথা জানিয়েছেন।

টঙ্গীর মিলগেটে ময়মনসিংহগামী যাত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে ময়মনসিংহে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু বাস না যাওয়ায় এবং সামনে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

টঙ্গী স্টেশন রোডে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই মিলন জানান, গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে আন্দোলনের কারণে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে কিছু বাস আগেই যাত্রী নামিয়ে ঢাকার দিকে ফিরে যাচ্ছে। অন্য কিছু বাস টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে বাইপাস হয়ে গাজীপুর যাচ্ছে।

পাঁচ দিন ধরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক শ্রমিক গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর বুধবার আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রাজপথে অবস্থান করছেন।

৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর

৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার হল, আসনবিন্যাস ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইটে (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া প্রয়োজন হলে পরীক্ষার সূচি বা নির্দেশনায় সংশোধন আনার অধিকার কমিশন সংরক্ষণ করে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।