মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাভার-আশুলিয়ায় সংঘর্ষে আহত প্রায় ৫০ পুলিশ সদস্য, শতাধিক কারখানায় ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাভার-আশুলিয়ায় সংঘর্ষে আহত প্রায় ৫০ পুলিশ সদস্য, শতাধিক কারখানায় ছুটি

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে দেওয়ান পাম্পের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে থাকতে চান। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশ তৎপর রয়েছে জানিয়ে এসপি বলেন, শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বল প্রয়োগ করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের বিষয়েও পুলিশ তাঁদের পাশে থেকে কাজ করে। এক মালিক শ্রমিকদের চার মাসের বেতন না দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাঁকে আটক করে আশুলিয়া থানার মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য শ্রমিকেরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের সুষ্ঠুভাবে কাজের পরিবেশ বজায় রাখতেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তবে কিছু লোকের ইন্ধনে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানা থেকে বেরিয়ে পুলিশের ওপর এবং অন্য কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করছে। তিনি বলেন, পুলিশ কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়।

সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এসপি জানান, তাঁর আওতাধীন আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কিছু কারখানা ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় কাজ চলছে। কিছু কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

দুপুরের পর কয়েকজন মালিক ফোন করে কারখানা চালু করতে চান এবং নিরাপত্তা চেয়েছেন বলেও জানান পুলিশ সুপার। তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানা খুলে উৎপাদন শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়ে মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ পর্যন্ত তাঁদের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার আহত হন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবার একজন পুলিশ সদস্যের মাথায় ইটের আঘাত লাগে। তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভৈরবে স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জেলা পরিষদ প্রশাসকের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
ভৈরবে স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জেলা পরিষদ প্রশাসকের উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জেলা পরিষদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সেবামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বিভিন্ন মার্কেট ও স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ মোস্তারী কাদেরী। পরিদর্শনকালে তাঁরা স্থানীয় উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নেন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি ভৈরব উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, রাস্তাঘাট যানজট ও হকারমুক্ত রাখা এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণে জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় মাদক নির্মূলের কার্যক্রমে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখা এবং সেবামূলক উদ্যোগগুলোর পরিধি বাড়াতে জেলা পরিষদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের বিষয় উঠে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের ভেতরে ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের অবস্থান এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকলে তা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ পরিস্থিতি থেকে উপকেন্দ্রকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, অননুমোদিত অবস্থান ও আস্তানা অপসারণ এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, জেলা পরিষদ প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত তদারকি এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভৈরবের স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ উন্নত হবে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমেও ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসকের

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসকের

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তিনি বলেছেন, তরুণদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তাঁরা শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। এ সময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সার্বিক আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পিঠা উৎসব, বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর প্রজিৎ কুমার ধর এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “তোমরা শুধু চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে বরং অন্যকে কীভাবে চাকরি দেবে, সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখে কাজ করো।” যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার এবং তাঁদের সার্বিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে অতিথিরা একটি আমলকী গাছের চারা রোপণ করেন। পরে প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচির শেষ পর্বে মহিলা উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে আয়োজিত পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। তাঁরা ফিতা কেটে ও কেক কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে পিঠা উৎসবের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

করিমগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ রাখায় ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ রাখায় ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের মরিচখালী বাজারে ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল সংরক্ষণের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা সরকার অদ্রি।

অভিযানকালে ওষুধের দোকানগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল সংরক্ষণের অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চারটি পৃথক মামলা করা হয়। এসব মামলায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে।

ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০ ধারার (খ) উপধারায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং (গ) উপধারায় ফিজিশিয়ান স্যাম্পলজাতীয় ওষুধ বিক্রি, বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অভিযানে করিমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ওষুধ বিক্রিতে আইনানুগ শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ফিজিশিয়ান স্যাম্পল সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।