বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অচলাবস্থা

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় যান চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সংঘর্ষের কারণে টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে গণপরিবহন ঘুরিয়ে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকে পড়া বাসগুলো নিরাপত্তার কারণে যাত্রী নামিয়ে ঢাকাসহ কাছাকাছি নিরাপদ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুরের বাংলাবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, বাসন, হাড়িকেন ও বোর্ডবাজারের সাইনবোর্ড এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গণপরিবহন টঙ্গী ও গাজীপুরা থেকে ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে পাঠানো হচ্ছে। কিছু বাসের যাত্রীদের নামিয়ে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

টঙ্গী স্টেশন রোডে ঢাকাগামী ভিআইপি পরিবহনের চালক বাসার মিয়া বলেন, ‘সামনে গোলমাল, তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।’ বসুমতি ও অনাবিল পরিবহনের চালকেরাও একই ধরনের কথা জানিয়েছেন।

টঙ্গীর মিলগেটে ময়মনসিংহগামী যাত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে ময়মনসিংহে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু বাস না যাওয়ায় এবং সামনে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

টঙ্গী স্টেশন রোডে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই মিলন জানান, গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে আন্দোলনের কারণে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে কিছু বাস আগেই যাত্রী নামিয়ে ঢাকার দিকে ফিরে যাচ্ছে। অন্য কিছু বাস টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে বাইপাস হয়ে গাজীপুর যাচ্ছে।

পাঁচ দিন ধরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক শ্রমিক গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর বুধবার আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রাজপথে অবস্থান করছেন।

ঢাকা মেডিকেলে দুদকের অভিযান, চিকিৎসাসেবায় বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা মেডিকেলে দুদকের অভিযান, চিকিৎসাসেবায় বেহাল দশা

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নানা হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার চিত্র পেয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। এ সময় একাধিক রোগীর স্বজন দুদকের কাছে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং প্রতিকার দাবি জানান।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক কিছু ঠিকঠাক পাইনি। চিকিৎসকদের রুমে পাইনি আমরা। জরুরি বিভাগে ডা. তানভীর থাকার কথা, তিনি নেই। নিউরো সার্জনকে রুমে পাইনি আমরা।’

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এখানে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। একেবারে বেহাল অবস্থা। পরিচালককে বিষয়গুলো দেখার জন্য বলেছি। হাসপাতালে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়, সারা দেশের হাসপাতালসহ সব সেবাখাতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান।

এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন জানান, দুদকের উত্থাপিত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটা, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, জরুরি বিভাগে সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই বৃহস্পতিবার এ অভিযান চালানো হয়।

তাড়াইলে বালুবাহী যানবাহনের ধুলায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বালুবাহী যানবাহনের ধুলায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় বায়ুদূষণ বাড়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন হাটবাজার ও সড়কে বালুবাহী যানবাহন থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশিসহ নানা শারীরিক সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা এ দূষণের কারণে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় ট্রাক, লরি ও অন্যান্য যানবাহনে খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করা হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বালুবাহী যানবাহন আচ্ছাদিত করে পরিবহনের কথা থাকলেও অনেক চালক তা মানছেন না। ফলে এসব যানবাহন চলাচলের সময় বালু বাতাসে উড়ে সড়কে ধুলার সৃষ্টি করছে। এতে পথচারী ও যানবাহনের আরোহীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ধুলার কারণে সড়কে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বালুবাহী যানবাহন কাপড় বা উপযুক্ত আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের কালনা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা চান্দু ভুঁইয়া জানান, শুষ্ক মৌসুমে বাইরে বের হলেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। সড়কের ধুলাবালির কারণে তাঁর শ্বাসকষ্ট ও হাঁচি-কাশি দেখা দেয়। তাঁর ধারণা, সড়কের ধুলাবালিই এসব সমস্যার অন্যতম কারণ।

তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতিশ দাস রাজীব জানান, বায়ুদূষণের কারণে হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, বালুবাহী যানবাহন আচ্ছাদিত করে চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে ধুলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, ছুটি ২৯ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, ছুটি ২৯ দিন

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। আগামী বছর সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে। তবে এর মধ্যে সাত দিন শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ কার্যত ২২ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারবেন সরকারি কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ছুটি থাকবে ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে ১৫ দিন। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৯ দিন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় এসব ছুটি পালন করা হবে।

এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, একজন কর্মচারীকে তাঁর নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ জন্য বছরের শুরুতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের অনুমতি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি নিজস্ব আইন-কানুন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় অথবা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে সরকার অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে ছুটি ঘোষণা করবে।