বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তিন বছরে কেউ পাস না করা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তিন বছরে কেউ পাস না করা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ায় আলোচনায় আসা আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

আবুল কাসেম উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি ছয়সূতী জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর বাজারের টিন ব্যবসায়ী মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর ৮৮(৪)/২০২৬।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১২ সালে আবুল কাসেম বাদী মো. মুক্তার মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ সময় লিখিত স্ট্যাম্পে দেনা স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পাওনা টাকা আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, এর আগে আবুল কাসেম প্রতিষ্ঠিত কলেজটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। টানা তিন বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ সালে দুজন, ২০২৫ সালে ছয়জন এবং ২০২৬ সালে সাতজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন বছরে মোট ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার।

একদিকে নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা- দুই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবুল কাসেম।

এ বিষয়ে আবুল কাসেমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

কটিয়াদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি, সভাপতি মাহফুজ সম্পাদক সবুজ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কটিয়াদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি, সভাপতি মাহফুজ সম্পাদক সবুজ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজকে সভাপতি এবং কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহ উদ্দিন ভূঞা সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সিনিয়র সহসভাপতি চাতল বাগহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মাহবুবুল হক সিদ্দিকী। সহসভাপতি করা হয়েছে রইছ মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ মিঞা, আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম এবং হাজী সামশুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামকে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান সিকদার ও হাজেরা সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবির। সাংগঠনিক সম্পাদক রইছ মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মসূয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ূন কবির।

অর্থ সম্পাদক হয়েছেন মধ্যপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহঅর্থ সম্পাদক পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মহিববুর রহমান। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন নাহার এবং দপ্তর সম্পাদক আচমিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কায়স্থ পল্লী জগৎতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার সেন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মণ্ডলভোগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম, ক্রীড়া সম্পাদক ঝাকালিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ এবং সহক্রীড়া সম্পাদক কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুর রহমান শাহীন।

সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন তাহেরা নুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাঈল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদস্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক হযরত মিয়াচান্দ শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সহআইনবিষয়ক সম্পাদক কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন করগাঁও ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল রব।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে বেতাল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া ফেরদৌসকে।

কমিটির সদস্যরা হলেন বনগ্রাম আনন্দ কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার, চর আলগী ইমামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, চান্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এহসানুল হক, বৈরাগীর চর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার দাস, লোহাজুরী ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির এবং চান্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম।

তাড়াইলে বড় পর্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন দেখল শিক্ষার্থী-খুদে খেলোয়াড়েরা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বড় পর্দায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন দেখল শিক্ষার্থী-খুদে খেলোয়াড়েরা

সারাদেশের ৫০৩টি উপজেলার সঙ্গে একযোগে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্ষুদে খেলোয়াড় ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী, তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল হাসান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসিফুর রহমান নাদিম। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদে খেলোয়াড়, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংগঠকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা স্টেডিয়ামে হাজারো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। বড় পর্দায় এসব পরিবেশনা উপভোগ করেন তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকেরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল উদ্দেশ্য। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট ১০টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এবারের আসরের স্লোগান—‘খেলাধুলা পেশা, পরিবারের নিশ্চয়তা’।

তাড়াইল উপজেলাতেও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিযোগী বাছাই করে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অটো চুরির পাঁচ বছরেও মেলেনি টাকা, পাওনা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
অটো চুরির পাঁচ বছরেও মেলেনি টাকা, পাওনা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ বছর আগে চুরি হওয়া ইজিবাইকের মূল্য বাবদ পাওনা ১ লাখ ২২ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অটোচালক মো. আঃ ছাত্তার রুবেল।

অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, হোসেনপুর উপজেলার হারেঞ্জা গ্রামের মো. মাহফুজ মিয়া, মো. শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চু, মো. বোরহান এবং বিন্না কইকান্দি গ্রামের সুজন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্তার রুবেলের বসতঘরসংলগ্ন চার্জিং রুম থেকে আট আসনের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি হোসেনপুর থানায় অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, তৎকালীন সময়ে পুলিশ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। পরে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি গফরগাঁও এলাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

ছাত্তার রুবেলের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে ইজিবাইক চুরির বিষয়টি স্বীকার করে গাড়ির মূল্য বাবদ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন অভিযুক্তরা। এর মধ্যে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর সন্তানদের অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পরও প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ছাত্তার রুবেল। এতে পাওনা টাকা উদ্ধার, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন অটোচালক ছাত্তার রুবেল। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পাওনা টাকা উদ্ধার, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।