অটো চুরির পাঁচ বছরেও মেলেনি টাকা, পাওনা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ বছর আগে চুরি হওয়া ইজিবাইকের মূল্য বাবদ পাওনা ১ লাখ ২২ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অটোচালক মো. আঃ ছাত্তার রুবেল।
অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, হোসেনপুর উপজেলার হারেঞ্জা গ্রামের মো. মাহফুজ মিয়া, মো. শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চু, মো. বোরহান এবং বিন্না কইকান্দি গ্রামের সুজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্তার রুবেলের বসতঘরসংলগ্ন চার্জিং রুম থেকে আট আসনের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি হোসেনপুর থানায় অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, তৎকালীন সময়ে পুলিশ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। পরে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি গফরগাঁও এলাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
ছাত্তার রুবেলের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে ইজিবাইক চুরির বিষয়টি স্বীকার করে গাড়ির মূল্য বাবদ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন অভিযুক্তরা। এর মধ্যে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর সন্তানদের অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পরও প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ছাত্তার রুবেল। এতে পাওনা টাকা উদ্ধার, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন অটোচালক ছাত্তার রুবেল। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পাওনা টাকা উদ্ধার, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।










Disqus comments are not configured yet.