যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে দুই দিনে তিন শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে পদত্যাগের ঘটনা বাড়ছে। শুক্রবার বিভাগের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বিচার বিভাগে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
শুক্রবার পদত্যাগ করা দুই কর্মকর্তা হলেন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জন আইজেনবার্গ এবং ট্রাম্পের অতীতের অপরাধসংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেসন রেডিং কুইনোনেস। এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেন। ফলে দুই দিনে বিভাগের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা পদ ছাড়লেন।
বিচার বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এখন নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এর একটি হলো অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন তদন্ত আবার শুরু করা। অন্যটি হলো দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম খতিয়ে দেখা।
জন আইজেনবার্গ ও জেসন রেডিং কুইনোনেস কেন পদত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে রদবদল দেখা যায়।
এদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড এবং তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেসন রেডিং কুইনোনেস ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর দপ্তরের দায়িত্বে ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত। এর মধ্যে ছিল ২০২১ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর কাছে থাকা গোপনীয় সরকারি নথিপত্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত। এ ছাড়া ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।
এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ খুঁজে বের করা। তবে এখন পর্যন্ত এই তদন্তের ভিত্তিতে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তদন্তের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রসিকিউটর জোসেফ ডিজেনোভাও গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন।
মিয়ামির শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কুইনোনেস দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা ও কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সৃষ্টির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কুইনোনেসের কার্যালয়। তাঁর কার্যালয় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অভিযোগ আনে।
বর্তমানে কুইনোনেসের কার্যালয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলা তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।
তুলনামূলকভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও জন আইজেনবার্গের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ বিচার বিভাগের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল তথ্য ফাঁসের তদন্তে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে গঠিত একটি গোপন আদালতের মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাকে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের সময় সেগুলোর সংবেদনশীল অংশ মুছে ফেলার প্রক্রিয়াও এই বিভাগ তদারকি করে। তবে অতিরিক্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগে ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান এ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।










Disqus comments are not configured yet.