শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে দুই দিনে তিন শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে দুই দিনে তিন শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে পদত্যাগের ঘটনা বাড়ছে। শুক্রবার বিভাগের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বিচার বিভাগে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার পদত্যাগ করা দুই কর্মকর্তা হলেন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জন আইজেনবার্গ এবং ট্রাম্পের অতীতের অপরাধসংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেসন রেডিং কুইনোনেস। এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেন। ফলে দুই দিনে বিভাগের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা পদ ছাড়লেন।

বিচার বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এখন নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এর একটি হলো অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন তদন্ত আবার শুরু করা। অন্যটি হলো দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম খতিয়ে দেখা।

জন আইজেনবার্গ ও জেসন রেডিং কুইনোনেস কেন পদত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে রদবদল দেখা যায়।

এদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড এবং তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেসন রেডিং কুইনোনেস ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর দপ্তরের দায়িত্বে ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত। এর মধ্যে ছিল ২০২১ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর কাছে থাকা গোপনীয় সরকারি নথিপত্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত। এ ছাড়া ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।

এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ খুঁজে বের করা। তবে এখন পর্যন্ত এই তদন্তের ভিত্তিতে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তদন্তের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রসিকিউটর জোসেফ ডিজেনোভাও গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন।

মিয়ামির শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কুইনোনেস দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা ও কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সৃষ্টির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কুইনোনেসের কার্যালয়। তাঁর কার্যালয় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অভিযোগ আনে।

বর্তমানে কুইনোনেসের কার্যালয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলা তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।

তুলনামূলকভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও জন আইজেনবার্গের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ বিচার বিভাগের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল তথ্য ফাঁসের তদন্তে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে গঠিত একটি গোপন আদালতের মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাকে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের সময় সেগুলোর সংবেদনশীল অংশ মুছে ফেলার প্রক্রিয়াও এই বিভাগ তদারকি করে। তবে অতিরিক্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগে ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান এ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলায় সহযোগিতা করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা পরিষদ ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইসরাইল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার চর্চা বাড়লে মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখা সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ঘিরে দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

মূল ঘটনা আড়াল, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মেজর আখতারের মিথ্যা মামলার অভিযোগ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
মূল ঘটনা আড়াল, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মেজর আখতারের মিথ্যা মামলার অভিযোগ

শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রকে মারধর এবং সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও তাঁর ছেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সহশ্রাম ছাইমুন্নেছা ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ধূলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে মামলা থেকে নির্দোষ নেতাকর্মীদের অব্যাহতির দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, গত ৪ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে গচিহাটা বাজারে গচিহাটা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জয়কে মারধরের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনের সন্দেহে শাহরিয়ার জামান রানা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। মারধরের শিকার হয়ে জয় বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তাঁর চাচা মো. তাজুল শাহকে জানান। পরে ভাতিজাকে মারধরের কারণ জানতে এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তাজুল শাহ গচিহাটা বাজারে যান। সেখানে শাহরিয়ার জামান রানার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাজুল শাহের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার জামান আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আগেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর নাম জড়িয়ে মামলা করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আফতাব উদ্দিন জয়কে মারধরের অভিযোগ এবং শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনা- দুটিরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলায় অন্তর্ভুক্ত নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন জয়ের বড় বোন আফিমা বেগম বলেন, “আমার ছোট ভাই দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। আখতারুজ্জামান স্যারের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা অন্যায়ভাবে চড় মেরে তাকে আহত করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”

এ সময় বক্তব্য দেন সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সহসভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আজাদ রহমান মিশর, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আহসান উদ্দিন দয়াল, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মোজাম্মেল হক ইমন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন শাহ।

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আফিমা বেগম, শাহিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতা মো. আজাদ রহমান মিশর শাহরিয়ার জামানের ওপর হামলার ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা উচিত নয়। তাঁরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রয়াত বিএনপি নেতার মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টার অভিযোগ বহিষ্কৃত মনিরের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
প্রয়াত বিএনপি নেতার মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টার অভিযোগ বহিষ্কৃত মনিরের বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে প্রয়াত বিএনপি নেতা এ. কে. আমিনুল হকের প্রতিষ্ঠিত ‘লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম সুপার মার্কেট’-এর ১৪ শতাংশ জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা দাবি করা প্রয়াত নেতার পরিবার নিরাপত্তা ও সম্পত্তি সুরক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত এ. কে. আমিনুল হকের স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম অভিযোগ করেন, গত ৩ নভেম্বর রাতে মার্কেটের প্রবেশপথে থাকা তাঁদের মালিকানাসংবলিত সাইনবোর্ড এবং হাইকোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ-সংক্রান্ত নোটিশবোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে অন্য পক্ষের মালিকানা দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম দাবি করেন, ১৯৯৩ সাল থেকে ১৪ শতাংশ জমিটির বৈধ মালিকানা ও দখল তাঁদের পরিবারের। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের আদালতে ১৫২/২০২৩ নম্বর মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধে হাইকোর্টে দায়ের করা সিভিল রিভিশন মামলা ৩৭৩৭/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রয়েছে। আদালতের এ আদেশ থাকা সত্ত্বেও মার্কেটের প্রবেশপথ থেকে সাইনবোর্ড ও নিষেধাজ্ঞার নোটিশবোর্ড খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লায়লা বেগম পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জমির মালিকানা সুরক্ষা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় তাঁর ছেলে এ কে এম আরিফুল হক রনি, সাবেক অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদলসহ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জমি দখলচেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জমির মালিকানা নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।