বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ধর্ষণ–পরবর্তী পূর্ণ মানবিক সেবা দিলেন ডা. আফসানা হোসেন শাওন

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধর্ষণ–পরবর্তী পূর্ণ মানবিক সেবা দিলেন ডা. আফসানা হোসেন শাওন

মানবিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হোসেন শাওন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ধর্ষণ–পরবর্তী মানবিক চিকিৎসা সহায়তার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আফসানা হোসেন শাওন, যিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এবং তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়মিত বসেন। ধলা ইউনিয়নের ১২ বছর বয়সী কিশোরী চয়নিকা (ছদ্মনাম) ধর্ষণের প্রায় পাঁচ মাস পর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সে ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হলে দরিদ্র পরিবারটি চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে। এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় ডা. শাওন ঘোষণা দেন—চয়নিকার গর্ভকাল, প্রসব ও প্রসব–পরবর্তী সব চিকিৎসা তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেবেন।

ঘোষণার পর থেকে কিশোরীটির নিয়মিত চেকআপ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ল্যাব পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। চিকিৎসকসহ হাসপাতালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চয়নিকার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। কয়েকদিন আগে গভীর রাতে প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সে একটি সুস্থ কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

প্রসব–পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও পরিবার যখন নতুন দুশ্চিন্তায় পড়ে, তখন বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ডা. শাওনের পরামর্শে হাসপাতালের চেয়ারম্যান মনসুরুল হক সুমন মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো চিকিৎসা ব্যয় মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন। এতে পরিবার আরও স্বস্তি ফিরে পায়। এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হক বাবন বলেন, “এটি শুধু একটি চিকিৎসা দায়িত্ব নয়, আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে কিশোরীর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ধর্ষণ–পরবর্তী সময়ে একটি ১২ বছরের কিশোরীর পাশে দাঁড়িয়ে তার জীবন, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় ডা. আফসানা হোসেন শাওন এবং তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালের এই ভূমিকা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মনে করছেন—এ ধরনের উদ্যোগ অসহায় মানুষের জীবন বাঁচায় এবং সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। কিশোরীর বাবা ও বড় ভাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডা. শাওনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ ডা. শাওনকে নেক হায়াত দিন এবং হাসপাতালের সেবাদান কবুল করুন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া মেয়ের চিকিৎসা সম্ভব ছিল না।”

কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজাসহ এক বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের দামিনা মোড় এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির সময় একটি নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থেকে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি মো. জিল্লুর রহমান (৪৪)। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোনসহ জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

নেত্রকোণা জেলা ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি কেন্দুয়া থানায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি উন্নত জাতের পাট বীজ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, এসব বীজ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদার জনৈক আব্দুল মালেকের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে রিকশাযোগে করিমগঞ্জ বাজারে বীজ ব্যবসায়ী মনা বাবুর দোকানে এসব বীজ পৌঁছে দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হন। এ সময় বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস বীজ বিক্রির মধ্যস্থতায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমার নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবিরের সহযোগিতায় বীজগুলো উদ্ধার করে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত আনা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তারা জানান, বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বীজ খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবে তিনি বারবার দায় এড়িয়ে গেছেন। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা। তিনি বলেন, “ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

‘অধিক সারে অধিক ফসল’—এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতি হয়, মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি জমিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ১৭টি পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ৩৪ জন সদস্য, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা মিয়া, সাংবাদিক ফজলুর রহমান এবং কৃষি পরিবার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সেমিনারে বক্তারা জানান, ভৈরব উপজেলায় বর্তমানে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ২৭টি টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে ২৫ জন সদস্য রয়েছেন, যারা ১০টি সেশনের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বীজ প্রত্যয়ন ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানান, বর্তমানে কৃষিজমিতে জৈব সারের পরিমাণ হওয়া উচিত কমপক্ষে ৫ শতাংশ, অথচ বাস্তবে তা মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার ফসল ও মাটির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। তাই সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভৈরবের ইউনিয়নগুলো থেকে কর্মঠ, উদ্যোগী এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহী কৃষকদের বাছাই করে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

সেমিনারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিল্ড স্কুলের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারেন।