বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ষণ–পরবর্তী পূর্ণ মানবিক সেবা দিলেন ডা. আফসানা হোসেন শাওন

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধর্ষণ–পরবর্তী পূর্ণ মানবিক সেবা দিলেন ডা. আফসানা হোসেন শাওন

মানবিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হোসেন শাওন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ধর্ষণ–পরবর্তী মানবিক চিকিৎসা সহায়তার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আফসানা হোসেন শাওন, যিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এবং তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়মিত বসেন। ধলা ইউনিয়নের ১২ বছর বয়সী কিশোরী চয়নিকা (ছদ্মনাম) ধর্ষণের প্রায় পাঁচ মাস পর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সে ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হলে দরিদ্র পরিবারটি চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে। এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় ডা. শাওন ঘোষণা দেন—চয়নিকার গর্ভকাল, প্রসব ও প্রসব–পরবর্তী সব চিকিৎসা তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেবেন।

ঘোষণার পর থেকে কিশোরীটির নিয়মিত চেকআপ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ল্যাব পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। চিকিৎসকসহ হাসপাতালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চয়নিকার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। কয়েকদিন আগে গভীর রাতে প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সে একটি সুস্থ কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

প্রসব–পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও পরিবার যখন নতুন দুশ্চিন্তায় পড়ে, তখন বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ডা. শাওনের পরামর্শে হাসপাতালের চেয়ারম্যান মনসুরুল হক সুমন মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো চিকিৎসা ব্যয় মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন। এতে পরিবার আরও স্বস্তি ফিরে পায়। এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হক বাবন বলেন, “এটি শুধু একটি চিকিৎসা দায়িত্ব নয়, আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে কিশোরীর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ধর্ষণ–পরবর্তী সময়ে একটি ১২ বছরের কিশোরীর পাশে দাঁড়িয়ে তার জীবন, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় ডা. আফসানা হোসেন শাওন এবং তাড়াইল স্পেশালাইজড হসপিটালের এই ভূমিকা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মনে করছেন—এ ধরনের উদ্যোগ অসহায় মানুষের জীবন বাঁচায় এবং সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। কিশোরীর বাবা ও বড় ভাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডা. শাওনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ ডা. শাওনকে নেক হায়াত দিন এবং হাসপাতালের সেবাদান কবুল করুন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া মেয়ের চিকিৎসা সম্ভব ছিল না।”

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।