সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

করিমগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সুমন মোড়ল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলেম রাসেল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বজলুর রহমান, সমাজসেবক বায়েজিদ হোসেন হৃদয়সহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তাহমিনা আক্তার উপজেলা ও পৌরসভাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। সরকারি বিধি-বিধান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শুরু থেকেই নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বক্তারা বলেন, পৌরসভার নিজস্ব সিএনজি স্ট্যান্ড না থাকলেও গোপনে অবৈধ ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ড্রেন নির্মাণ না করেই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার সড়কবাতি অচল থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি পানি সংযোগ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন টিসিবি কার্ডধারী নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন না।

বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ২০ ও ৫০ টাকা ফি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচার ও জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থেকেও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের অর্থ থেকে চেয়ারম্যান ও সচিবদের বিলাসী ভ্রমণ এবং দামী রিসোর্টে অবস্থানের খরচ বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা দাবি করেন, এডিপি ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। পছন্দের ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

এ সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা করিমগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লব অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। দুর্নীতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাংবাদিকদের সহযোগিতা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং করিমগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।