কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অফিসে শাটডাউনের নামে অনিয়ম ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলার ৩২টি এলাকায় টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়; বরং অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এই কৃত্রিম বিদ্যুৎ বিভ্রাট সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ লেনদেনকে আড়াল করতে সরকারি কন্ট্রোল রুমে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়, যা তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, ওই দিন সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে লাইন বন্ধ রাখার জন্য কন্ট্রোল রুমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ চন্দ্র। তিনি দাবি করেন, একটি ট্রান্সফরমার থেকে তেল লিক করছে এবং জরুরি মেরামতের জন্য ‘২ নম্বর ফিডার’ বন্ধ রাখা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবে কোনো ট্রান্সফরমারের ত্রুটি ছিল না। বরং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করতেই এই শাটডাউন নেওয়া হয়।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিবন্ধিত ঠিকাদারদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে কোনো ঠিকাদার অবগত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ বিশ্বাস এবং অনুজ চন্দ্র ব্যক্তিগতভাবে লোক নিয়োগ করে কাজটি সম্পন্ন করেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি “বিষয়টি দেখে জানাবেন” বলে সময় নেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। তার এই নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি তথ্য বিকৃত করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *