রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

আগামীকাল শুরু এসএসসি, কিশোরগঞ্জে কালবৈশাখীর বিদ্যুৎ সংকটে দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীরা

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আগামীকাল শুরু এসএসসি, কিশোরগঞ্জে কালবৈশাখীর বিদ্যুৎ সংকটে দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীরা

“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”—এই আহ্বানে নতুন বছরকে বরণ করলেও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের শুরুতেই কিশোরগঞ্জবাসীর জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েছে জেলার হাজারো শিক্ষার্থী।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এর ঠিক আগে টানা ৩–৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের প্রথম রাতেই কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। কোথাও ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি, কোথাও লাইনের ওপর পড়ে থাকে গাছগাছালি।

এর ফলে জেলার কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। মোবাইল ফোনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি চার্জের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা তীব্র গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে, আর রাতের অন্ধকারে বাড়ছে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের প্রস্তুতিতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। পানির সংকটও তীব্র। আমার ছোট বোন এসএসসি পরীক্ষার্থী—পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় তাকে শহরে আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়েছি।”

হোসেনপুরের আল-আমীন বলেন, “আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। মোমবাতি বা হারিকেনে পড়া এখনকার ছেলেমেয়েদের জন্য খুব কষ্টকর।”

এসএসসি পরীক্ষার্থী মুকিম বলেন, “মোমবাতির আলোয় পড়তে খুব অসুবিধা হয়। সামনে পরীক্ষা—এভাবে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।”

অন্য পরীক্ষার্থী সানজিদা জানায়, “ছোটবেলা থেকে কখনো হারিকেন দেখিনি। মোমবাতি দিয়ে পড়লে বাইরের বাতাসে আলো দুলে যায়, তাই বাবা হারিকেন নিয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে যখন আইপিএস লাইটের চার্জ শেষ হয়ে যায়, তখন তা ব্যবহার করি।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার জানান, “এ বছর জেলায় ৭৫টি কেন্দ্রে প্রায় ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”

গাইটাল এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, “আমার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। শনিবার আমি পিডিবির লাইন ব্যবহার করলেও পল্লী বিদ্যুতের মতো আমার বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু আমার পাশের মহল্লাতেই বিদ্যুৎ ছিল। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও বাসার ভাড়াটিয়াসহ সবাই পানির কষ্টে ছিলাম।”

কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে শনিবার যশোদল সাব-স্টেশনের ৩৩ কেভি ব্রেকার নষ্ট হওয়ায় অনেক এলাকা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রকৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও আমাদের সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “পহেলা বৈশাখের রাতে ঝড়ে লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। পরবর্তী ঝড়েও কিছু ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ চালিয়ে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। নতুন করে ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীরা আমাদেরই সন্তান। তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এসএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে এমন বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর এক প্রবাসীর মৃত্যু

কটিয়াদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর এক প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন (২৮) উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গাববাড়ি এলাকার মো. রমজান আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে আলমগীর হোসেন সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি রিয়াদ শহরের আল লিয়ান কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া জানান, শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তার এ অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেরপুরে ৪ জন সহ র‍্যাবের হাতে কিশোরগঞ্জের ৫ আসামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ৪ জন সহ র‍্যাবের হাতে কিশোরগঞ্জের ৫ আসামী গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জে পৃথক হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলার ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাত ও দুপুরে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি হত্যা মামলার ৪ আসামিকে বগুড়া জেলার শেরপুর থানার খানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. সাব্বির হোসেন (২২), মজিবুর রহমান (৫৫), মো. সজিব মিয়া (২৬) ও শাহ আলম (৫২)। রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব-১২ সিপিএসসি, বগুড়ার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি জাহেদ (৩৮)কে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে সদর থানার নিয়ামতপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, ইটনা উপজেলার মধ্যগ্রামে নিহত আইয়ুব আলী (৬৮)-এর বোনের জমি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব আলী একটি মুরগির খামারে মুরগি কিনতে গেলে আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল হাসান (৪৩) বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫; ধারাঃ ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৫/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার তেরহাসিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জাহেদসহ অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইকরামুল হাসান অনিক (১৮)-এর বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

হামলায় অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিকের বাবা আবু কালাম (৪৬)সহ আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩২, তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৬; ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।

র‍্যাব জানায়, উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

“সময়মতো টিকা দিন, হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধ করুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. দিদারুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মো. আজিজুল হক তানজিলসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বক্তারা জানান, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দেশব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদানের হার বৃদ্ধি, অরক্ষিত শিশুদের সুরক্ষার আওতায় আনা এবং হাম-রুবেলার সংক্রমণ প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য। এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।